রাত ১১:২৭
বন্ধ হচ্ছে গ্রামীণফোনের বিজ্ঞাপনঅধ্যাপক আনিসুজ্জামানের জন্মদিনবিরক্তিকর সহকর্মীকে মোকাবিলার কৌশল কি?আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে চলাচলে নির্দেশনাআমিরাতে চালু হচ্ছে শ্রমবাজারবিশ্ব ইজতেমা আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হচ্ছে আজসংরক্ষিত নারী আসনে ৪৯ নারী সংসদ নির্বাচিতআবুধাবি পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রীদক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ভূমিকম্পের ৪.৭ মাত্রাগুজব শেয়ার দিলে পরিণতি হবে ভয়াবহ

বিরোধী দলের সমালোচনায় কখনো বাধা দেব না: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক: গণতান্ত্রিক ধারায় সমালোচনা সব সময় গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বাংলাদেশের জনগণ যেহেতু ভোট দিয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচিত করে এবং আমরা যারা প্রতিনিধিরা বসেছি, সবাই কিন্তু আমরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে এসেছি। জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে এখানে আমরা আমাদের স্ব-স্ব দায়িত্ব পালন করব। আমাদের সব সময় মনে রাখতে হবে, আমাদের ভোটাররা যারা আমাদের নির্বাচিত করে এখানে পাঠিয়েছে তাদের সার্বিক উন্নয়ন, তাদের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং দেশে যেন একটা শান্তিপূর্ণ অবস্থা বিরাজ করে। বাংলাদেশ জঙ্গিমুক্ত, মাদকমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত ও একটি উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে যেন গড়ে ওঠে এবং দেশের মানুষের জীবনে যেন শান্তি-নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় সেটাই আমাদের সব সময় লক্ষ রাখতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি এইটুকু আশ্বাস দিতে পারি যে এই সমালোচনা আমাদের বিরোধী দলে যাঁরা আছেন, তাঁরা যথাযথভাবে করতে পারবেন। এখানে আমরা কোনো বাধা সৃষ্টি করব না। কোনোদিন বাধা আমরা দিইনি, দেব না।’ এ বিষয়ে স্পিকারকে সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।

গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনে একাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে পুনর্নির্বাচিত স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে স্বাগত ও শুভেচ্ছা জানিয়ে এবং পরে সদ্যঃপ্রয়াত আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের মৃত্যুতে আনা শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় অধিবেশনে সভাপতির আসনে ছিলেন টানা তৃতীয়বার নির্বাচিত স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে অনেক ঘাত-প্রতিঘাত অনেক চড়াই-উতরাই পার হয়ে আমরা একটা গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতে সক্ষম হয়েছি। কারণ এবারের নির্বাচনে বাংলাদেশের জনগণ, মা-বোনেরা, প্রথম যাঁরা ভোটার তাঁরা, তরুণ ভোটাররা সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেছে। একটি সফল নির্বাচনের মধ্য দিয়ে এই সংসদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আমি বাংলাদেশের জনগণকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।’ তিনি আরো বলেন, ‘সংসদ নেতা হিসেবে আমার দায়িত্ব সংসদের সব সদস্যের অধিকার যেমন দেখা এবং সেই সঙ্গে আপনি স্পিকার হিসেবে সব সদস্য যাতে সমানভাবে সুযোগ পায়; এখানে সরকারি দল, বিরোধী দল সবাই যেন পায়, অবশ্যই আপনি সেটা দেখবেন। এ ব্যাপারে আমরা আপনাকে সব রকমের সহযোগিতা করব।’

সংসদ নেতা বলেন, ‘গণতন্ত্রই একটি দেশকে উন্নয়নের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়। আর তা আজ বাংলাদেশের ক্ষেত্রে প্রমাণিত সত্য। আজ আমরা আর্থ-সামাজিকভাবে উন্নয়নের পথে এগিয়ে গিয়ে এখন উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছি। এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আমরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের যে স্বপ্ন, যে স্বপ্ন নিয়ে তিনি এ দেশকে স্বাধীন করেছিলেন, সেই ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা ইনশাআল্লাহ গড়ে তুলব। সেটাই আমাদের লক্ষ্য।’

সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেন, ‘অতীতে একটা চমৎকার পরিবেশে সংসদ পরিচালিত হয়েছিল বলেই আমরা মানুষের আস্থা-বিশ্বাস অর্জন করতে পেরেছিলাম। আবার আমরা যেহেতু সংসদে নির্বাচিত হয়ে এসেছি, অবশ্যই জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ করে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাব। এটাই আমাদের লক্ষ্য। আর এ ব্যাপারে আমার দৃঢ় বিশ্বাস আছে।’

তিনি স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর উদ্দেশে বলেন, ‘এই সংসদে বাংলাদেশের জনগণ আমাদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে। আজকে সেই সংসদ আপনাকে স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত করেছে এবং ডেপুটি স্পিকার হিসেবে আমাদের ফজলে রাব্বী সাহেবকে নির্বাচিত করেছে। আমি আপনাকে ও ডেপুটি স্পিকারকে অভিনন্দন জানাচ্ছি।’

শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় শেখ হাসিনা : শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আবেগজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘সৈয়দ আশরাফকে নিজের ভাইয়ের মতোই দেখতাম। সৈয়দ আশরাফ অত্যন্ত সৎ ও মেধাবী রাজনৈতিক নেতা ছিল। সে আমার পরিবারের সদস্যদের মতো ছিল, আমাকে বড় বোনের মতো শ্রদ্ধা করত। প্রতিটি ক্ষেত্রে সে সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছে। রাজনৈতিক জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও অসাধারণ মেধাসম্পন্ন নেতা ছিল সৈয়দ আশরাফ। ওয়ান-ইলেভেনের সময় আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছিল সৈয়দ আশরাফ। আজ আমরা যে গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছি সে ক্ষেত্রে সৈয়দ আশরাফেরও বলিষ্ঠ ভূমিকা ছিল। অসম্ভব সোজা সরল ছিল সে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘ভাইদের হারিয়ে যে কজনকে ভাইয়ের মতো পেয়েছিলাম, সৈয়দ আশরাফ তাদের একজন। তার বাবা দেশের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ছিলেন, সৈয়দ আশরাফও দীর্ঘদিন মন্ত্রী ছিল। কিন্তু সব সময় অসম্ভব সৎ জীবন যাপন করেছে। ওর টাকা নেই, পয়সা নেই। কষ্ট করে চলতে হতো। ওর চিকিৎসার জন্য যা যা করার আমি তা করেছি। তার মতো একজন প্রজ্ঞাবান ও জ্ঞানী রাজনীতিকের চলে যাওয়ার ক্ষতি কোনো দিন পূরণ হবার নয়। তার মৃত্যু দল হিসেবে আওয়ামী লীগের এবং দেশের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।’

ময়মনসিংহবাসীকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সৈয়দ আশরাফের সততা ও নিষ্ঠার কারণে অসুস্থতা সত্ত্বেও তাকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করেছে ময়মনসিংহবাসী। তার বোন ডা. লিপিকে উপনির্বাচনে মনোনয়ন দিয়েছি। আমরা আশা করি, সৈয়দ আশরাফের স্মৃতি ধরে রাখতে ময়মনসিংহবাসী ডা. লিপিকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন।’

শোক প্রস্তাবের ওপর আরো আলোচনা করেন আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতা আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, মোহাম্মদ নাসিম, কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক এবং সাবেক বিরোধীদলীয় নেতা জাতীয় পার্টির বেগম রওশন এরশাদ।

সৈয়দ আশরাফ ছাড়াও যাঁদের নামে শোক প্রস্তাব নেওয়া হয় তাঁরা হলেন—সাবেক সংসদ সদস্য খন্দকার আবদুল বাতেন, নুরুল আলম চৌধুরী, তরিকুল ইসলাম, ড. ফজলে রাব্বী চৌধুরী, মাওলানা নুরুল ইসলাম, আশরাফুন নেছা মোশাররফ ও বোরহান উদ্দিন খান; চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার ও চিত্রনাট্যকার, অভিনয়শিল্পী ও লেখক আমজাদ হোসেন, বরেণ্য সংগীতশিল্পী, সুরকার ও মুক্তিযোদ্ধা আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল, উপমহাদেশের প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা মৃণাল সেন, নারী মুক্তিযোদ্ধা বীরপ্রতীক তারামন বিবি, জাতীয় প্রতীকের নকশাকার মোহাম্মদ ইদ্রিস, প্রখ্যাত সাংবাদিক শাহরিয়ার শহীদ, ভাষাসৈনিক সৈয়দ আব্দুল হান্নান, একাত্তরের বীরযোদ্ধা ভারতীয় সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার কুলদীপ সিং চাঁদপুরী, চলচ্চিত্র নির্মাতা সাইদুল আনাম টুটুল এবং প্রখ্যাত চিত্রগ্রাহক ও আলোকচিত্রী আনোয়ার হোসেন, সাবেক স্পিকার হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর স্ত্রী মেহজাবিন চৌধুরী। তাঁদের জীবনবৃত্তান্ত সংবলিত শোক প্রস্তাব সংসদে উত্থাপন ও সংসদ সদস্যদের মধ্যে বিতরণ করা হয়।

Top