রাত ১১:১০
বন্ধ হচ্ছে গ্রামীণফোনের বিজ্ঞাপনঅধ্যাপক আনিসুজ্জামানের জন্মদিনবিরক্তিকর সহকর্মীকে মোকাবিলার কৌশল কি?আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে চলাচলে নির্দেশনাআমিরাতে চালু হচ্ছে শ্রমবাজারবিশ্ব ইজতেমা আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হচ্ছে আজসংরক্ষিত নারী আসনে ৪৯ নারী সংসদ নির্বাচিতআবুধাবি পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রীদক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ভূমিকম্পের ৪.৭ মাত্রাগুজব শেয়ার দিলে পরিণতি হবে ভয়াবহ

বাংলাদেশে চা উৎপাদনের রেকর্ড

ডেস্ক: চা উৎপাদনের ১৬৫ বছরের ইতিহাসে এবার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উৎপাদনের রেকর্ড গড়েছে বাংলাদেশে। চায়ের সদ্য সমাপ্ত মৌসুমে চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭ কোটি ২৩ লাখ কেজি। তবে এ মৌসুমে চা উৎপাদিত হয়েছে ৮ কোটি ২০ লাখ কেজি যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে উৎপাদন ৯৭ লাখ কেজি বেশি।

চা উৎপাদনর ইতিহাসে ২০১৬ সালে সর্বোচ্চ ৮ কোটি ৫০ লাখ কেজি চা-উৎপাদিত হয়। কিন্তু তার পরের বছরেই উৎপাদন কমে দাঁড়ায় ৭ কোটি ৮০ লাখ কেজিতে। তবে ২০১৮ সালে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৮ কোটি ২০ লাখ কেজি চা উৎপাদন হয়েছে। চা-বাগান সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন সঠিক সময়ে কীটনাশক ব্যবহার এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চা উৎপাদনে এই সফলতা এসেছে।

টি ট্রেডার্স অ্যান্ড প্লান্টারস অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের সদস্য সচিব জহর তরফদার জানান, সদ্য সমাপ্ত মৌসুমে ৩৭টি নিলামে চায়ের গড় দাম উঠেছে কেজিপ্রতি প্রায় ২৫০ টাকা। যা অন্য সময়ের তুলনায় বেশি।

ইন্টারন্যাশনাল চা কমিটির তথ্য মতে, চা উৎপাদনে এখন শীর্ষে রয়েছে চীন। দ্বিতীয় অবস্থানে আছে ভারত। বাংলাদেশ এখন বিশ্বে নবম স্থানে। একটানা কয়েক বছর ধরেই দশম অবস্থানে ছিল বাংলাদেশ। গত শতাব্দীর শেষে চা উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১১তম। ১৯৮৯ সালে ছিল ১২তম। বাংলাদেশের সামনে চায়ের উৎপাদন দ্বিগুণ করার সুযোগ রয়েছে বলেও জানিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল চা কমিটি।

চা গবেষক ও বিশেষজ্ঞদের মতে, চা বাগানের জমি সঠিকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে না। মাত্র ৫২ ভাগে রয়েছে চায়ের চাষ। বাকি ৪৮ ভাগ পতিত ও চা চাষের জন্য লিজ নিয়ে ভিন্ন খাতে ব্যবহার হচ্ছে। চা বাগানের নামে লিজ নেয়া জমির সঠিক ব্যবহার, সরকারি পৃষ্টপোষকতা, সঠিক মনিটরিং, সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা, কম মূল্যে সার-কীটনাশক সরবরাহ ও ক্লোনিং চা গাছ রোপণ করলে উৎপাদন দ্বিগুণ করা সম্ভব হবে।

এ মৌসুমে সাড়ে ৬ লাখ কেজি চা পাকিস্তান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রফতানি হয়েছে। ২০১০ সাল থেকে চা শিল্প নিয়ে যে শঙ্কার তৈরি হয় তা কেটে গেছে এ মৌসুমের উৎপাদনে। কারণ ২০১০ সাল থেকে চা আমদানি শুরু হয়। তখন শঙ্কা জাগে- চা আমদানি নির্ভর হয়ে পড়বে কি না। ২০১৫ সালে সর্বোচ্চ ১ কোটি ১৪ লাখ কেজি চা আমদানি হয়।

চা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ১৮৫৪ সালে সিলেটের মালিনীছড়া চা-বাগানে প্রথম বাণিজ্যিক ভিত্তিতে চা চাষ শুরু হয়। দেশ স্বাধীনের সময় দেশে চা-বাগানের সংখ্যা ছিল ১৫০টি। তখন ৩ কোটি কেজির মতো উৎপাদন হতো। বর্তমানে চা-বাগানের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬৬ টিতে। এর মধ্যে মৌলভীবাজারেই রয়েছে ৯২টি চা বাগান। বাকিগুলোর মধ্যে হবিগঞ্জে ২৪টি, সিলেটে ১৯টি, চট্টগ্রামে ২২টি, পঞ্চগড়ে ৭টি, রাঙামাটিতে ২টি ও ঠাকুরগাঁওয়ে ১টি চা বাগান রয়েছে। এসব বাগানে মোট জমির পরিমাণ ২ লাখ ৭৯ হাজার ৪৩৯ একর।

Top