রাত ১১:৪৬
বন্ধ হচ্ছে গ্রামীণফোনের বিজ্ঞাপনঅধ্যাপক আনিসুজ্জামানের জন্মদিনবিরক্তিকর সহকর্মীকে মোকাবিলার কৌশল কি?আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে চলাচলে নির্দেশনাআমিরাতে চালু হচ্ছে শ্রমবাজারবিশ্ব ইজতেমা আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হচ্ছে আজসংরক্ষিত নারী আসনে ৪৯ নারী সংসদ নির্বাচিতআবুধাবি পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রীদক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ভূমিকম্পের ৪.৭ মাত্রাগুজব শেয়ার দিলে পরিণতি হবে ভয়াবহ

বাণিজ্য মেলায় ছুটির দিনে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়

ডেস্ক: ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় সপ্তাহের বাকি দিনগুলোতে ক্রেতা-দর্শনার্থীর সমাগম কম থাকলেও সাপ্তাহিক ছুটির দিনে রাজধানীবাসীর ঢল নেমেছিল শেরেবাংলা নগরের আগারগাঁওয়ের বাণিজ্য মেলার মাঠে। সকাল থেকেই মেলায় ছিল দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়। বেলা শেষের দিকে তা পরিণত হয় জনসমুদ্রে।অন্যদিনের চেয়ে বিক্রিও বেড়েছে। শুক্রবার দেখা গেছে হাজারো মানুষের স্রোত এক হয়ে মিশেছে মেলা প্রাঙ্গণে। একই সঙ্গে ব্যস্ততা বেড়েছে বিক্রেতাদেরও। সপ্তাহের অন্য যে কোনো দিনের তুলনায় তারা একটু বেশিই ব্যস্ত ছিলো। ক্রেতাদের অতিরিক্ত চাপ সামলাতে অনেকেই হিমসিম খাচ্ছে। শুধু রাজধানীবাসীই নয়, দেশের নানা অঞ্চল থেকে এদিন দর্শনার্থীদের ভিড় জমাতে দেখা গেছে মেলার স্টলগুলোতে।

সরকারি ও বেসরকারি চাকরিজীবীদের কাছে এ দিনটিই পরিবার নিয়ে বাণিজ্য মেলায় আসার একমাত্র সুযোগ। এছাড়া, মেলা শুরুর ১০ দিন অতিবাহিত হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই বেড়েছে দর্শক সমাগম।

টিকেট বিক্রেতারা জানান, এ বছর বাণিজ্য মেলা শুরুর পর থেকে আজ সবচেয়ে বেশি টিকিট বিক্রি হচ্ছে এবং হয়েছে। এখনো আসছেন দর্শনার্থী-ক্রেতারা। সাধারণত মেলার শেষের দিনগুলোতে টিকিট বিক্রি বেশি হয়। শেষের দিকে ছুটির দিনগুলোতে টিকিট বিক্রি হয় সবচেয়ে বেশি।

দর্শক সমাগম বাড়ায় স্টল মালিক-কর্মচারীরা পার করছেন ব্যস্ত সময়। দম ফেলানোর সময় পাচ্ছেন না তারা। তবে বিক্রি বেশি হওয়ায় আছে মানসিক স্বস্তি। ব্যবসায়ীরা জানান, এখন পর্যন্ত আজই তাদের সর্বোচ্চ বিক্রি হয়েছে।

মেলায় বিক্রির শীর্ষে আছে প্লাস্টিক পণ্য। বাংলাদেশি কয়েকটি প্লাস্টিক কোম্পানি নগদ মূল্যছাড় দেওয়ায় এসব প্যাভিলিয়নে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। এছাড়া, ঘর সাজানোর জিনিসপত্র, রান্নার সরঞ্জাম ও গার্মেন্টস পণ্যের স্টলগুলোতে ক্রেতা সমাগম বেশি। খাবার হোটেলগুলোতেও রয়েছে চোখে পড়ার মতো ভিড়। তবে বিদেশী প্যাভিলিয়নগুলোর দিকেই দর্শনার্থীদের আকর্ষণ সবচেয়ে বেশি। প্রতিনিয়ত নতুন নতুন রাইড যোগ হওয়ায় শিশুকেন্দ্রগুলোতেও রয়েছে যথেষ্ট ভিড়।

অন্যদিকে, বাণিজ্য মেলায় ভিড় বাড়ার ফলে মেলার আশপাশের এলাকাগুলোতে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র যানজট। মিরপুরগামী যাত্রীরা পড়েছেন ভোগান্তির মধ্যে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) আয়োজনে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে ৯ জানুয়ারি শুরু হয় ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা-২০১৯। ২৪তম এ মেলার উদ্বোধন করেন রাষ্ট্রপতি। মেলা চলবে ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

এবারের মেলা ভিন্ন আঙ্গিকে সাজানোর চেষ্টা করা হয়েছে। মেলার প্রধান ফটকে আনা হয়েছে পরিবর্তন। দর্শনার্থীদের জন্য মেলার ভেতরে রাখা হয়েছে খোলামেলা স্থান। যাতে পরিবার ও পরিজনদের নিয়ে তারা স্বাচ্ছন্দ্যে ঘোরাঘুরি করতে পারে। মেলার দুই প্রান্তে সুন্দরবনের আদলে তৈরি করা হয়েছে ইকোপার্ক। এছাড়াও রয়েছে ডিজিটাল এক্সপেরিয়েন্স সেন্টার। যার মাধ্যমে ক্রেতা-দর্শনার্থীরা নির্দিষ্ট স্টল ও প্যাভিলিয়ন সহজে খুঁজে বের করতে পারবেন। মেলায় সাপ্তাহিক কোনো ছুটি থাকবে না। সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত মেলা খোলা থাকবে।

এ বছর মেলায় মা ও শিশু কেন্দ্র, শিশুপার্ক, ই-পার্কসহ পর্যাপ্ত এটিএম বুথ রয়েছে। মেলায় তৈরি করা হয়েছে পোশাক, হোমটেক্স, ফেব্রিকস, হস্তশিল্প, পাট-পাটজাত পণ্য, চামড়া-চামড়াজাত পণ্য, তৈজসপত্র, সিরামিক, প্লাস্টিক পণ্য, পলিমার পণ্য, কসমেটিকস হারবাল ও প্রসাধনী সামগ্রী। আরো রয়েছে খাদ্য ও খাদ্যজাত পণ্য, ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিকস সামগ্রী, ইমিটেশন ও জুয়েলারি, নির্মাণসামগ্রী ও ফার্নিচারের স্টল।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় বিভিন্ন ক্যাটাগরির প্যাভিলিয়নের সংখ্যা ১১০টি। মিনি প্যাভিলিয়ন ৮৩টি ও স্টল ৪১২টি। মেলা মাঠের আয়তন ৩১ দশমিক ৫৩ একর।

মেলায় প্রবেশের জন্য প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য টিকিটের ফি নির্ধারণ হয়েছে ৩০ টাকা ও অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ২০ টাকা। এবার অনলাইন ও কিউআর কোডের মাধ্যমেও টিকেট কাটতে পারবেন ক্রেতা-দর্শনার্থীরা।

Top