সকাল ৯:৩৭
বিএনপি’র শুভ বুদ্ধির উদয় হবে : আইনমন্ত্রীদুর্নীতির বিরুদ্ধে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা : প্রধানমন্ত্রীদুর্নীতির বিরুদ্ধে সবরকম ব্যবস্থা গ্রহণ করবোস্ত্রীর জন্মদিন ভুললেই ডিভোর্স!স্বজনপ্রীতি হচ্ছে দুর্নীতির উল্টো পিঠযেই দুর্নীতি করুক ছাড় দেয়া হবে না : গণপূর্তমন্ত্রীআন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০১৯ এর আন্তঃমন্ত্রণালয় সভাপ্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হলেন জয়সৌদির ধর্মত্যাগী সেই কিশোরী নাম পাল্টালেনজাতিসংঘের এক তৃতীয়াংশ কর্মীই যৌন হয়রানির শিকার

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি সাইফুল, সম্পাদক ফরিদা

ডেস্ক: জাতীয় প্রেস ক্লাবের ব্যবস্থাপনা কমিটির দ্বিবার্ষিক নির্বাচনে সভাপতি পদে যুগান্তরের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সাইফুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক পদে ইত্তেফাকের ফরিদা ইয়াসমিন নির্বাচিত হয়েছেন। সভাপতি পদে সাইফুল আলম ৬২১ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ইকোনমিক টাইমসের শওকত মাহমুদ পেয়েছেন ৪৩১ ভোট।

আর সাধারণ সম্পাদক পদে পুনর্নির্বাচিত ফরিদা ইয়াসমিন পেয়েছেন ৫৬৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আমার দেশের ইলিয়াস খান পেয়েছেন ৪০৬ ভোট। এর ফলে প্রেস ক্লাবের ৬৪ বছরের ইতিহাসে ব্যবস্থাপনা কমিটির শীর্ষ পদে ফরিদা ইয়াসমিন পরপর দু’বার নারী সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হলেন। কমিটির ১৭টি পদের মধ্যে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্যানেল সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ ১৩টিতে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে। অন্যদিকে বিএনপিপন্থি প্যানেল থেকে দুটি এবং স্বতন্ত্র পদে সরকার সমর্থক একজন জয়লাভ করেছেন।

মঙ্গলবার রাতে ফল ঘোষণা করেন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান প্রেস ইন্সটিটিউটের মহাপরিচালক শাহ আলমগীর। এ সময় কমিটির চার সদস্য মো. মোস্তফা-ই-জামিল, এসএএম শওকত হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান ও উদয় হাকিম উপস্থিত ছিলেন। প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোট গ্রহণ করা হয়। ১ হাজার ২১২ ভোটারের মধ্যে ১ হাজার ৭২ জন ভোট প্রদান করেন।

নির্বাচনে সিনিয়র সহসভাপতি পদে ৪৪২ ভোট পেয়ে বাসসের মো. ওমর ফারুক নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশের খবরের সৈয়দ মেসবাহ উদ্দিন পেয়েছেন ৪১৪ ভোট। সহ-সভাপতি পদে বাংলাদেশের খবরের আজিজুল ইসলাম ভূঁইয়া ৫৫৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আমার দেশের নুরুল হাসান খান পেয়েছেন ৪৪৪ ভোট।

দুটি যুগ্ম সম্পাদক পদে সমকালের নগর সম্পাদক শাহেদ চৌধুরী ৫৯৯ ও ইত্তেফাকের মাইনুল আলম ৫৫৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাদের নিকটতম দুই প্রতিদ্বন্দ্বী পেয়েছেন ইনকিলাবের সাখাওয়াত হোসেন বাদশা ৩৫১ ও নয়া দিগন্তের আবু সালেহ আকন ২৮৩ ভোট। এছাড়া কোষাধ্যক্ষ পদে ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত ৫৯৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সরগমের কাজী রওনক হোসেন পেয়েছেন ৪০৪ ভোট।

এছাড়া ১০টি সদস্যপদে বিজয়ীরা হলেন- কুদ্দুস আফ্রাদ (৫১৫), শামসুদ্দিন আহমেদ চারু (৫০৭), রেজোয়ানুল হক রাজা (৪৮৪), শাহনাজ বেগম (৪৬২), মো. সানাউল হক (৪৪২), কল্যাণ সাহা (৪৩৯), জাহিদুজ্জামান ফারুক (৪২৯), সৈয়দ আবদাল আহমেদ (৪১৭), বখতিয়ার রানা (৪০১) ও হাসান আরেফীন (৩৯১)। এর মধ্যে মো. সানাউল হক, সৈয়দ আবদাল আহমদ ও বখতিয়ার রানা বিএনপিপন্থি প্যানেল থেকে এবং সরকার সমর্থক জাহিদুজ্জামান ফারুক স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হয়েছেন।

ফল ঘোষণার পর ক্লাব সদস্যদের উদ্দেশে প্রতিক্রিয়ায় নবনির্বাচিত সভাপতি সাইফুল আলম বলেন, নবগঠিত কমিটি ক্লাবের উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাবে। তিনি সবার সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি ইকবাল সোবহান চৌধুরী, বিএফইউজের সভাপতি মোল্লা জালাল, সাবেক সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল, বর্তমান মহাসচিব শাবান মাহমুদ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আবু জাফর সূর্য, সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। ফল ঘোষণার পর বিজয়ীরা প্রেস ক্লাবে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ কার্যনির্বাহী পরিষদের মোট ১৭টি পদে ৪৪ প্রার্থী এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী দুটি পূর্ণাঙ্গ প্যানেলের মধ্যে ছিল আওয়ামী লীগ সমর্থিত সাইফুল আলম-ফরিদা ইয়াসমিন প্যানেল এবং বিএনপিপন্থি শওকত মাহমুদ ও ইলিয়াস খান প্যানেল। এছাড়া ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম চৌধুরীসহ বিভিন্ন পদে আরও ১০ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

Top