সকাল ৯:৫২
ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তারেক সাক্ষাৎকার নিচ্ছেনথার্টিফার্স্ট নাইটে কোনো অনুষ্ঠান নয় : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীআজকের সংখ্যা ১৮/১১/১৮দিনাজপুরে তিনদিন ব্যাপী প্রাণ চিনিগুড়া চাল নবান্ন উৎসব পালিতআজকের সংখ্যা ১৫/১১/১৮সোয়া দুই কোটি টাকায় বিক্রি হলো আত্মহত্যার চিঠিপালিত হচ্ছে বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবসনির্বাচন নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কূটনীতিক ব্রিফ বৃহস্পতিবারচাঁপাইনবাবগঞ্জে সম্প্রীতি বাংলাদেশের সমাবেশআজকের সংখ্যা ১৪/১১/১৮

ছেলেদের ফ্যাশন মেয়েদের প্যাশন

ডেস্ক: পুজো এসে গেলেই ফি-বছর বেশ কিছু পত্রপত্রিকায় ফ্যাশনের পাতায় দেখি ফলাও করে লেখা হয়, এ বারের পুজোয় ছেলেরা ফ্যাশনের দিক থেকে মেয়েদের চেয়ে কোনও অংশেই পিছিয়ে নেই! এটা যে কত বড় ভুল কথা তা বোধহয় এক জন পুরুষের চেয়ে বেশি কেউ জানে না।

আরে বাবা, একটু মন ঠান্ডা করে ভাবুন তো! মেয়েরা ছেলেদের সব ধরনের পোশাক ইচ্ছে করলেই পরে ফেলতে পারে। কিন্তু ছেলেরা কোনও দিন পারবে বিয়েবাড়িতে শাড়ি পরে যেতে? পারবে না। অথচ একটি মেয়ে অবলীলায় রঙিন ধুতি-পাঞ্জাবি পরে মহানন্দে ঘুরে বেড়ায়। মেয়েরা ছেলেদের মতো সব ধরনের হেয়ার কাট করতে পারে। এমনকি, মহাপ্রভু শ্রীশ্রীচৈতন্যদেবের মতো মাথা মুড়িয়ে ফেললেও তাদের কাউকে কাউকে নাকি আশ্চর্য ‘কিউট’ লাগে! অথচ ছেলেরা মেয়েদের মতো একটা বা দুটো লম্বা বিনুনি বেঁধে ঘুরতে পারবে কোনও দিন? পারবে মেয়েদের মতো পেন্সিল হিলওয়ালা জুতো পায়ে ঘুরে বেড়াতে?

উঁহু, পারবে না! একমাত্র মানুষ ছাড়া পৃথিবীর মোটামুটি সব ধরনের প্রাণীর বেলায় দেখা যায়, ছেলেরা মেয়েদের চেয়ে বেশি সুন্দর এবং আকর্ষণীয়। টুকটাক ব্যতিক্রম থাকলেও পাখি হোক, বাঘ হোক, মাছ হোক বা পতঙ্গ— গ্ল্যামারের দিক থেকে ছেলেরাই কিন্তু এগিয়ে। মানুষের বেলায় পুরুষরা যতই সাজগোজ করুক না কেন, নারীর স্নিগ্ধ সৌন্দর্যের কাছে তারা কোনও দিনই হালে পানি পাবে না।কিন্তু এই সহজ সত্যিটা সে সহজ ভাবে মেনে নিলে তো! ফ্যাশন আসলে যে কোনও মানুষের সৌন্দর্য ও ব্যক্তিত্বকে আরও বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য।

তাই, ঠিক কেমন ভাবে আর কতটুকু সাজলে নিজেকে অসামান্যা মনে হবে, এটা যদি একটি মেয়ে বুঝতেই না পারল, তা হলে তাকে একবার মাত্র দেখেই, তার কথা ভাবতে ভাবতে সারা রাত জানলার ধারে দাঁড়িয়ে সিগারেট খাওয়া যাবে কি? তার কপালের মাঝখানের ছোট্ট একবিন্দু লাল কুমকুমের টিপ, ইংরেজি অনার্সের গোটা ক্লাসরুমে ধ্রুবতারার মতো একলা জ্বলজ্বল করবে, চারপাশের আর সব কিছু ভ্যানিশ হয়ে যাবে, এটাই তো দস্তুর। কপালে অনেকটা জায়গা ফাঁকা রয়েছে বলে কেউ যদি সেখানে দশখানা টিপ পরে ঘুরে বেড়ায় কিংবা গালে অ্যাত্তখানি গোলাপি রং মাখে, তবে কি সেই পাগলকরা এফেক্ট তৈরি হবে? কারণ, ফ্যাশন তো মানুষের আকর্ষণ বাড়িয়ে তোলার জন্য, তাকে ক্লাউন সাজানোর জন্য নয়।

একই ভাবে পুরুষকেও মাথায় রাখতে হবে, তাদের কোন কোন জিনিস মেয়েদের মনে বিরক্তির সৃষ্টি করতে পারে। মেয়েরা ম্যাচিং করে পোশাক পরতে পছন্দ করে বলে পুরুষরাও যদি সাদা জামার সঙ্গে সাদা প্যান্ট আর সাদা জুতো-মোজা পরে, সেটা কিন্তু মোটেই খুব বুদ্ধিমানের কাজ হবে না। কারণ, অভিনেতা জিতেন্দ্র বা ভবানীপুরের টার্ফ রোডের মুখের মাছবিক্রেতা বিজয়দা কিন্তু  ব্যতিক্রম।কমবয়সি ছেলেদের যেমন কখনওই উচিত নয় ডোরাকাটা, চকচকে বা অন্তর্বাস দেখা যাচ্ছে এমন পাতলা কাপড়ের জামা পরা। তেমনই ছেলেদের খুব ঢোলা বা গায়ে-পায়ে এঁটে বসেছে, এমন টাইট জামাকাপড়ও বেশির ভাগ মেয়েরই অপছন্দের। কেউ যদি মনে ভাবে, টাইট গেঞ্জি পরে হাতাটা একটু গুটিয়ে না-তুললে আমার বাইসেপস-বল্লরী ঠিক মতো বিকশিত হচ্ছে না, তবে তার চেয়ে মূর্খ পুরুষ দুনিয়ায় দুটো নেই।

আবার কোমর থেকে যে কোনও মুহূর্তে খসে পড়তে পারে এমন নিচু হয়ে ঝুলে থাকা প্যান্টও মেয়েদের চোখে অস্বস্তিকর। আসলে ফ্যাশন-স্টাইল মানে তো শুধু দামি দামি জামা-জুতো-চশমা পরা নয়, নিজেকে মানানসই এবং রুচিসম্মত করে সাজানো। ছ’হাজারি জামা পরেও গা দিয়ে যদি আঁশটে ঘেমো গন্ধ বেরোয় বা ইস্ত্রির অভাবে তা যদি কুঁচকে থাকে, তার চেয়ে চমৎকার ডিয়োডোরেন্ট ছড়িয়ে পরিপাটি করে পরা ছশো টাকার জামায় অনেক বেশি ব্যক্তিত্ব ফুটে উঠতে পারে, এটা কিন্তু সবার আগে বুঝতে হবে। সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা/অলঙ্করণ:দেবাশীষ দেব।

Top