সকাল ৮:৩৫
ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তারেক সাক্ষাৎকার নিচ্ছেনথার্টিফার্স্ট নাইটে কোনো অনুষ্ঠান নয় : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীআজকের সংখ্যা ১৮/১১/১৮দিনাজপুরে তিনদিন ব্যাপী প্রাণ চিনিগুড়া চাল নবান্ন উৎসব পালিতআজকের সংখ্যা ১৫/১১/১৮সোয়া দুই কোটি টাকায় বিক্রি হলো আত্মহত্যার চিঠিপালিত হচ্ছে বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবসনির্বাচন নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কূটনীতিক ব্রিফ বৃহস্পতিবারচাঁপাইনবাবগঞ্জে সম্প্রীতি বাংলাদেশের সমাবেশআজকের সংখ্যা ১৪/১১/১৮

শিশুদের বই পড়ার অভ্যেস

প্রথমকথা ডেস্ক: শিশুদের মধ্যে কল্পনাশক্তি বাড়াতে এবং মনের বিকাশ ঘটাতে বইয়ের বিকল্প নেই। সন্তানকে এই নতুন জগতের খোঁজ দিতে বাবা-মায়ের ভূমিকা অনেকটাই।

বাচ্চা অবসর সময় পেলেই মেতে ওঠে ভিডিও গেমে। মোবাইল কিংবা ট্যাবলেটে তুমুল আগ্রহ। পড়তে বসলেও মন পড়ে থাকে টিভির কার্টুনের দিকে। সত্যি বলতে কি আজকালকার বাচ্চারা ছোট থেকেই বড্ড গ্যাজেটপ্রেমী। তবে সবটাই কি ছোটদের দোষ? তা কিন্তু নয়। ভেবে দেখুন আমরা বড়রাই বা ছোটদের কতটুকু সময় দিতে পারি? আমরা অনেকেই জয়েন্ট ফ্যামিলিতে বড় হয়েছি। বাবা-মা ব্যস্ত থাকলেও অবসর সময়ে গল্পের ঝুলি খুলে বসতেন দাদু-দিদারা। সেসবের চল এখন নেই বললেই চলে। বর্তমান কম্পিটিশনের যুগে ছোটদের মধ্যে কল্পনার রঙিন জগত তৈরি হওয়ার সুযোগই পায় না। এখন দেখুন, যুগের হাওয়া পুরোটা বদলে ফেলা সম্ভব নয়। গ্যাজেট, কার্টুন, ভিডিও গেম থাকবেই। তার পাশাপাশি সন্তানের মধ্যে বই পড়ার অভ্যেস গড়ে তুলুন। শিশুদের মধ্যে কল্পনাশক্তি বাড়াতে এবং মনের বিকাশ ঘটাতে বইয়ের বিকল্প নেই। সন্তানকে এই নতুন জগতের খোঁজ দিতে বাবা-মায়ের ভূমিকা অনেকটাই।

সন্তান ছোট থাকতেই ওর সঙ্গে নানা ধরনের বইয়ের পরিচয় করিয়ে দিন। আজকাল ছোটদের উপযোগী নানা ধরনের রঙিন বই পাওয়া যায়। একদম ছোটদের জন্য রয়েছে শক্ত কভারের নানা মাপের রঙিন বই। সন্তান যখন একটুআধটু কথা বলতে শিখবে বা নতুন জিনিস চিনতে শুরু করবে তখন ওর জন্য ফুল, ফল বা জীবজন্তুর ছবি দেওয়া বই কিনে দিন। শিশু যাতে বইয়ের ছবির সঙ্গে বাস্তবের মিল খুঁজে পায় সেদিকে খেয়াল রাখুন। যেমন বাচ্চাকে আপেল খাওয়ানোর সময় ওর হাতে একটা গোটা আপেল দিন এবং বইয়ে আপেলের ছবি দেখান। বাচ্চাকে বাইরে নিয়ে গেলে পাখি বা ফুল চিনিয়ে দিন। বাড়িতে এসে সেগুলির ছবি দেখান। এতে ছোটরা অনেক তাড়াতাড়ি শিখতে পারবে।

ছোটদের গল্প থেকে প্রচুর সিনেমা বা অ্যানিমেটেড মুভি তৈরি হয়। বাচ্চারা সাধারণত কার্টুন দেখতে পছন্দ করে। ওরা যেই কার্টুন দেখতে ভালবাসে সেই ধরনের বই কিনে দিন। রূপকথার গল্প যেমন স্নো হোয়াইট, জঙ্গল বুক, সিনড্রেলা, রাপুনজ়েল এগুলি যেমন কার্টুন মুভি রয়েছে তেমনই গল্পগুলির সুন্দর রঙিন বই পাওয়া যায়। বাচ্চারা যেই গল্প কার্টুনে দেখছে সেই গল্প পড়তেও উৎসাহ পাবে।

বাচ্চাকে ঠিক ভুল বিচার করা কিংবা দায়িত্ববোধ গড়ে তুলতে গল্পের উদাহরণ টেনে আনুন। যেমন ধরুন বাচ্চা মিথ্যে কথা বলে ধরা পড়লে ওকে ‘পালে বাঘ পড়া’র গল্প শুনিয়ে বলতে পারেন মিথ্যে কথা বলা ঠিক নয় কেন। সন্তানকে জাতক, নীতিকথা বা ঈশপের গল্প শোনান। এগুলি বাচ্চার মধ্যে সুঅভ্যেস, ভালমন্দবোধ গড়ে তুলতে সাহায্য করে।

বাচ্চারাএকটু বড় হলেই নানারকম বিষয়ে প্রশ্ন করে। যে কোনও বিষয়ে ওদের অসীম কৌতূহল, সবকিছু ওরা জানতে চায়। ‘এটা কি, ওটা কি, এটা কেন’ এমন হাজারো প্রশ্ন সামলাতে হিমশিম খান বাবা-মায়েরা। কিন্তু বাচ্চাদের প্রশ্নে বিরক্ত হলে বা ক্লান্ত হলে চলবে না। রেগে গিয়ে ধমক দিলে কিন্তু ছোটরা জানার আগ্রহটাই হারিয়ে ফেলবে। তাই প্রশ্ন করতে দিন। বোঝার চেষ্টা করুন কোন ধরনের বিষয়ে ওর আগ্রহ বেশি। সেই অনুযায়ী ওকে নানা ধরনের বই কিনে দিন। বেশিরভাগ বাচ্চারা পশুপাখি সম্পর্কে জানতে পছন্দ করে। ওদের বড় ছবি দেওয়া পশুপাখির বই কিনে দিন। ছবি দেখানোর পাশাপাশি সেই সব জীবজন্তু সম্পর্কে মজার তথ্য ওর সামনে তুলে ধরুন। এছাড়াও ইতিহাস, বিজ্ঞান, সাধারণ জ্ঞানের বই কিনে দিন। এই বইগুলি ওর জানার পরিধিটাও বাড়িয়ে তুলবে। সন্তান একটু বড় হলে বাড়ির কাছাকাছি কোনও লাইব্রেরিতে ওকে মেম্বার করে দিন।

বাচ্চাকে উপহার কিনে দেওয়ার তালিকায় বই অবশ্যই রাখুন। মাঝেমধ্যে সন্তানকে নিয়ে বড় কোনও বুকস্টোরে যান। সন্তাকেই নিজের ইচ্ছেমতো বই বেছে নিতে দিন। নিজে স্বাধীনভাবে বই বেছে কিনলে ওর পড়ার আগ্রহটাও বাড়বে।

রোজ রাতে ঘুমনোর আগে বই পড়ার অভ্যেস গড়ে তুলুন। সন্তান যখন ছোট হলে আপনি ওকে বই পড়ে শোনান। সঙ্গে ছবি দেখান। গল্পের পরবর্তী অংশ না পড়ে সন্তানকে ছবি দেখিয়ে জিজ্ঞেস করুন ‘‘বলতো এরপর কী হল?’’ সন্তানকে নিজের মতো করে বানিয়েবলতে দিন। এতে সন্তানের কল্পনা শক্তির বিকাশ হবে। একটু বড় হলে ওকে নিজে নিজে বই পড়তে উৎসাহ দিন। এতে বাচ্চারা তাড়াতাড়ি পড়তে শিখবে। পড়া হয়ে গেলে সন্তানকে জিজ্ঞেস করুন ওর কোন গল্পটা ভাল লেগেছে। ওর কাছ থেকে গল্প শুনতে চান। এতে আপনিও বুঝতে পারবেন বই পড়ে সন্তান ঠিকমতো বুঝতে পারছে কি না।

সন্তানের বইয়ের র‌্যাকে পড়ার বইয়ের পাশাপাশি গল্পের বইও সাজিয়ে রাখুন। পড়ার ফাঁকে রিল্যাক্স করতে চাইলে কমিকস বা মজার বই পড়তে পারে। এতে বারবার মোবাইল চেক করা গেমস খেলার প্রবণতাও কমবে।

খাওয়ার টেবলে বা পারিবারিক আড্ডায় মাঝমধ্যে গল্প বলার আসরের আয়োজন করুন। পরিবারের সবাই একটা করে গল্প বলুন। এতে সন্তান গল্পের বই পড়তে আরও বেশি উৎসাহ পাবে। অনেক বাচ্চার সকলের সামনে কোনও কিছু পারফর্ম করতে ভয় পায়। বাড়িতে এই ধরনের আয়োজন করলে বাচ্চার জড়তা কাটবে এবং আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠবে। সূত্র: সানন্দা।

Top