সকাল ৯:৪৩
ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তারেক সাক্ষাৎকার নিচ্ছেনথার্টিফার্স্ট নাইটে কোনো অনুষ্ঠান নয় : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীআজকের সংখ্যা ১৮/১১/১৮দিনাজপুরে তিনদিন ব্যাপী প্রাণ চিনিগুড়া চাল নবান্ন উৎসব পালিতআজকের সংখ্যা ১৫/১১/১৮সোয়া দুই কোটি টাকায় বিক্রি হলো আত্মহত্যার চিঠিপালিত হচ্ছে বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবসনির্বাচন নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কূটনীতিক ব্রিফ বৃহস্পতিবারচাঁপাইনবাবগঞ্জে সম্প্রীতি বাংলাদেশের সমাবেশআজকের সংখ্যা ১৪/১১/১৮

সন্তান এবং পরিবার

ডেস্ক: সন্তান এবং পরিবারবাচ্চাদের মন সাদা কাগজের মতো। কাছের মানুষদের থেকেই ওর শেখার শুরু। সন্তানের বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রে তাই পরিবারের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।”

সন্তানের বড় হওয়ার পথে পরিবার পরিজনের ভূমিকা অনেকটা। পরিবারের সকলের মধ্যে সুস্থ এব সুন্দর সম্পর্ক ছোটদের বড় হয়ে ওঠার পথটা অনেকটাই মসৃণ করে দেয়। পরিবার সন্তানের কাছে ভরসা এবং নিরাপত্তার জায়গা হয়ে ওঠে। অন্যদিকে পরিবারের সকলের মধ্যে সদ্ভাব না থাকলে ছোটদের মানসিক বিকাশে তা বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তাই বাড়িতে সন্তানের উপযোগী পরিবেশ গড়ে তোলা দরকার। সন্তানকে বড়দের শ্রদ্ধা করা, ফ্যামিলি ভ্যালুজ়কে মর্যাদা দিতে তো শেখাবেনই, তবে এক্ষেত্রে বাড়িদের বড়দের ভূমিকাও অনেকটাই।

সন্তানের বড় হয়ে ওঠার পিছনে বাবা-মায়ের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ছোটরা অনুকরণপ্রিয়। ওরা যা দেখে তাই শেখে। বাবা-মায়ের কথাবার্তা, আচারর আচরণের উপরই নির্ভর করে গড়ে ওঠে সন্তানের ব্যক্তিত্ব। স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে দোষারোপ করলে বা খারাপ ভাষায় সম্ভাষণ করলে তা সন্তানের মধ্যে বিরূপ প্রভাব ফেলে। শুধু স্বামী স্ত্রী নয়, পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যেও মনোমালিণ্য হতেই পারে। এক্ষেত্রে চেষ্টা করুন বাচ্চার সামনে ঝগড়া না করতে। পরস্পর আলাচনার মধ্যে সমাধানে আসার চেষ্টা করুন।

আজকাল বেশির ভাগ বাড়িতেই বাবা-মা দু’জনেই ওয়র্কিং। ফলে সন্তানরা অনেকটা সময় তাঁদের দাদু-ঠাকুমার সঙ্গে কাটায়। এরকম পরিবারে অনেকসময় দেখা যায় বাবা বা মা শাসন করলে সন্তান দাদু, ঠাকুমা কিংবা অন্য কারওর কাছে গিয়ে আশ্রয় নেয়। এই বিষয়টিকে প্রশ্রয় দেবেন না। প্রয়োজনে বাড়ির বড়রা সবাই মিলে এই বিষয়ে আলোচনা করুন। সন্তান যেন বুঝতে পারে অন্যায়টা সবার চোখেই অন্যায়। এতে বাচ্চার নিজের ভুল স্বীকার করার সৎসাহস তৈরি হবে।

ছোট পরিবার এবং একমাত্র সন্তানের অন্যতম সমস্যা একাকীত্ব। বাচ্চাকে সময় না দিতে পারায় অপরাধবোধে ভোগা বাবা-মায়ের আক্ষেপ অনেকক্ষেত্রেই বদলে যায় উপহারে। এতে কিন্তু আখেরে সন্তানের ক্ষতিই হয়। বাচ্চার বায়না বাড়তে থাকে এবং ক্রমশ জেদি, উদ্ধত স্বভাবের হয়ে ওঠে। তাই কাজে খুব ব্যস্ত থাকলেও বাচ্চার সঙ্গে প্রতিদিন বাচ্চার সঙ্গে কিছুটা সময় কাটানোর চেষ্টা করুন। অফিস থেকে অনন্ত একবার ফোন করে সন্তানের সঙ্গে কিছুক্ষণ কথা বলুন। বাড়িতে ফিরে শুধু পড়াশোনা নয়, ওর সারাদিন কেমন কাটল, কী করল ইত্যাদি সবকিছু নিয়ে গল্প করুন। সময় যতই কম হোক না কেন, সন্তানের সঙ্গে মানসিক দূরত্ব বাড়তে দেবেন না।

বাড়িতে দু’টি সন্তান থাকলে তাদের মধ্যে ঝগড়া, খুনসুটি হওয়া খুবই স্বাভাবিক। তবে খেয়াল রাখুন ওরা যেন একে অপরের ভাল গুণ প্রশংসা করতে শেখে। পড়াশোনা, চেহারা, পারফরমেন্স কোনওকিছুতেই দু’জনের মধ্যে তুলনা করবেন না। এবং বাড়ির অন্যান্যরা বা আত্মীয়স্বজনও যাতে কোনওভাবে আপনার সন্তানদের মধ্যে তুলনা না করেন সেদিকে খেয়াল রাখুন।

টিনএজে পৌঁছে জেনারেশন গ্যাপের কারণে সন্তানের সঙ্গে বয়োজ্যেষ্ঠ আত্মীয় কিংবা দাদু-ঠাকুমার সঙ্গে মতবিরোধ হতেই পারে। এক্ষেত্রে সন্তান যাতে বড়দের প্রতি শ্রদ্ধা এবং ভালবাসায় মেশানো ব্যবহার করে সেদিকে খেয়াল রাখুন। পাশাপাশি নিজস্ব মতামত ভদ্রভাবে প্রকাশ করার স্বাধীনতাও দিন।

দিনের কোনও একটা সময় অন্তত সবাই একসঙ্গে কাটান। একসঙ্গে ডিনার করতে পারেন। খাওয়ার সময় টিভি না দেখে নিজেরা গল্প করুন না! হালকা হাসি ঠাট্টার মধ্যে সারাদিনের গল্প শেয়ার করুন। গল্পচ্ছলে পরিবারের নানা গল্প বাচ্চাকে বলুন। পরিবারের সকলের জন্মদিন পালন করুন। খুব বেশি জাঁকজমকের দরকার নেই। ছোট করেই হোক না। এতে পরিবারের সকলের সঙ্গে সন্তানের সুন্দর বন্ডিং গড়ে উঠবে।

মাঝে মাঝে ছুটির দিনে পরিবারের সকলে মিলে একটা আউটিং প্ল্যান করুন। প্ল্যানিংয়ের সময় বেড়ানোর জায়গা, লাঞ্চের মেনু ইত্যাদি নিয়ে সন্তানেরও মতামত নিন। ওর সঙ্গে আলোচনা করুন এবং ওর ইচ্ছেগুলোকে গুরুত্ব দেওয়ার চেষ্টা করুন। ওকে ছোটখাটো কিছু জিনিসের দায়িত্ব দিন। এতে ওর আত্মবিশ্বাস বাড়বে। যদি ও এমনকিছু বলে করে যা সেই মুহূর্তে করা সম্ভব নয়, তাহলে কেন তা করছেন না তা ওকে বুঝিয়ে বলুন। সন্তানের ভাল কাজের প্রশংসা করতে ভুলবেন না। প্রত্যেক পরিবারে কিছু ফ্যামিলি ট্র্যাডিশন থাকে। পরিবারের সকলে যদি সেই রীতিকে গুরুত্ব এবং যথাযথ মর্যাদা দেয় তা হলে সন্তানও সেই ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধশীল হয়ে উঠবে।

আমরা বড়রা অনেকসময়ই আমাদের অপূর্ণ স্বপ্নগুলো সন্তানের মধ্যে দিয়ে পূরণ করতে চাই। কিন্তু মনে রাখবেন আপনার সন্তান সম্পূর্ণ ভিন্ন ব্যক্তিত্বের একজন মানুষ। তাই সন্তানের উপর কোনও কিছু চাপিয়ে না দিয়ে ওর পছন্দ অপছন্দ বোঝার চেষ্টা করুন। ওর ইচ্ছে অনুয়ায়ী ওকে কোনও সৃজনশীল কাজে উৎসাহ দিন। পড়াশোনার পাশাপাশি নাচ, গান বা ছবি আঁকার মতো বিষয়গুলি ছোটদের মানসিক বিকাশেরও সহায়ক।

সূত্র: সানন্দা:

Top