ভোর ৫:৪৯
ফুলবাড়ীতে দু’টি ইউনিয়ন পরিষদে উন্মুক্ত বাজেট ঘোষণামাদারীপুরে র‌্যাব-৮ কর্তৃক নকল ৬টন সেমাই ধ্বংসমাদারীপুরে পদ্মায় নিখোঁজ লঞ্চ যাত্রীর লাশ উদ্ধারমমতা’র কিশোর-কিশোরী নির্বাচন কর্মশালাফরিদপুরে আটক মেছোবাঘ, দুটি পালিয়ে যাওয়ায় আতংকে এলাকাবাসীযুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর পদে বিজয়ী বাংলাদেশি চন্দনসেহরি ও ইফতারে সঠিক খাবার নির্বাচন করা গুরুত্বপূর্ণতাসফিয়া হত্যা মামলার আসামী আশিক গ্রেফতারসালমান খানের প্রেমিকা দিশাতাজিনের কুলখানি শুক্রবার

শহীদ পরিবারকে অপমানিত-অপদস্ত করতে সদা তৎপর

তৌহীদ রেজা নূর: আসুন প্রথমে পাঠ করি এদেশের জন্য জীবন দিয়েছিলেন যে বীর সন্তানেরা – তাঁদের একজন শহীদ মহীউদ্দীন হায়দারের উত্তরসূরির কথা ।

শাহেদ সদরুদ্দীন তার ফেইসবুক ওয়ালে লিখেছেন,” আমার আম্মা মুক্তিযুদ্ধে একজন শহীদ এর স্ত্রী। দেশ স্বাধীনের পর বংগবন্ধু উল্লেখিত মর্যাদায় আম্মা কে তার ২ শিশু সন্তান সহ বসবাস কল্পে ঢাকার আজিমপুরে একটি সরকারি বাসা আমরণ থাকার জন্য বরাদ্দ দিয়েছিলেন। ১৯৭২ এ মন্ত্রিসভায় গৃহীত যে সিদ্ধান্ত বলে ঐ বরাদ্দ দেয়া হয়েছিলো তাতে পরিস্কার বলা আছে – সরকার কোন বিকল্প আবাসের ব্যবস্হা না করে এই শহীদ পরিবার কে এই বাসা থেকে উচ্ছেদ করতে পারবে না। কিন্তু বাস্তবতা এই যে, আগামী পরশু সোমবার ইচ্ছার বিরুদ্ধে অব্যাহত হুমকি ও চাপের মুখে একরাশ অপমান নিয়ে বিগত ৪৫ বছরের ঠিকানা থেকে আম্মা কে উচ্ছেদ হতে হচ্ছে।
আমার আম্মা শেষ অনুরোধ হিসাবে গণপূর্তের যুগ্ম সচিব মর্যাদার একজন কর্মকর্তা কে সম্প্রতি বলেছিলেন – ‘এত অল্প সময়ের নোটিশে আমি কি ভাবে বাসা খুঁজে পাবো? আমাকে সময় টা এক্সটেনশন করে দিন’। উত্তরে উক্ত অফিসার বলেছেন – ‘ কিছু খুঁজে না পেলে গাছ তলায় গিয়ে থাকেন’।
…… অথচ ঐ সারমেয়র থেকে ভালো কে জানে আমার পিতার মতো অগণিত শহীদ এর রক্তে এ দেশ স্বাধীন না হলে সে আজ কোথায় থাকতো?
আমার আম্মা কিম্বা আমাদের দুই ভাইয়ের কেউই আর এ বিষয়ে কারো কাছ থেকে কিছু প্রাপ্তির আশা করছিনা। ভাবতে লজ্জা হয়, কষ্ট হয় – ২০১০ সাল থেকে প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাত লাভের চেষ্টা করেও আমার আম্মা সফল হননি – অবিশ্বাস্য হলেও এটাই সত্যি। তাই অনেক দিন বাদে ফেসবুকে এসে একটি শহীদ পরিবারের হৃদয়ে রক্ত ক্ষরণের বিষয় টি জানিয়ে গেলাম। আমরা জানি হুমায়ুন আহমেদ, জাফর ইকবাল স্যার এর পরিবার থেকে শুরু করে অনেক শহীদ পরিবার কে বিভিন্ন আমলে এই সব কুৎসিত অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে যেতে হয়েছে। আমরাও আজ এ বেদনা বরণ করলাম। তবু মনে প্রাণে চাই – ভালো থাকুক এ বাংলাদেশ। ইতিহাস সাক্ষী থাকবে এ দেশের জন্মে আমাদের পরিবারের একটি গৌরবময় ভূমিকা আছে। আর এ দেশ তো আমাদের অনেক দিয়েছে যা পরিশোধের ক্ষমতা আমাদের নেই। সর্বোপরি এ দেশের মাটিতেই আমার শহীদ পিতা ঘুমিয়ে আছেন। জয় বাংলা। জয় বংগবন্ধু “

এরপর নিজের সাথে বোঝা-পড়া করি। মনে রাখা জরুরী যে, একাত্তরে বিজয় অর্জনের পর থেকেই এদেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে ঘাপটি মেরে থাকা একটি গোষ্ঠী শহীদ পরিবারকে অপমানিত-অপদস্ত করতে সদা তৎপর ছিল এবং রয়েছে। এই চিহ্নিত গোষ্ঠী মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হননে সর্বদা সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসার ঔদ্ধত্য দেখিয়েছে এবং এখনো দেখাচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধোত্তর পরিত্যাক্ত সম্পত্তি অধিগ্রহণ করে বঙ্গবন্ধু এ দেশের অনেক শহীদ পরিবারকে আবাসনের ব্যবস্থা করেছিলেন।কিন্তু সেই একই মুখচেনা গোষ্ঠী পচাত্তরে বঙ্গবন্ধু সপরিবারে হত্যার শিকার হবার পর মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হননে আরো তৎপর হয়ে ওঠে, এবং শহীদ পরিবারদের অপমানিত করার কাজটি প্রকাশ্যে করা আরম্ভ করে। এদের ঘৃণ্য অপচেষ্টার শিকার হতে হয় আমাদের পরিবারকে (শহীদ সাংবাদিক সিরাজুদ্দীন হোসেনের পরিবার), শহীদ চলচ্চিত্রকার, সাহিত্যিক জহীর রায়হানেরপরিবারকে, শহীদ সুরকার আলতাফ মাহমুদের পরিবারকে, শহীদ অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদের পরিবারকে, শহীদ অধ্যাপক আবুল হাশেমের পরিবারকে। এবং এমন আরো অগণিত শহীদ পরিবারকে এই গোষ্ঠী অপমানিত করে তাঁদের জন্য বঙ্গবন্ধু- কর্তৃক বরাদ্দকৃত আবাসন থেকে অপমানজনকভাবে উচ্ছেদ করে। এর মধ্যে শহীদ সন্তান শাহেদ সদরুদ্দীন-এর ফেসবুকের পোষ্ট থেকে জানতে পারলাম তাঁদেরকে (শহীদ মহীউদ্দীন হায়দারের পরিবার) বঙ্গবন্ধু’র বরাদ্দ করা বাসা থেকে উচ্ছেদ করার হুমকি দেয়া হয়েছে এবং আগামীকালের মধ্যেই নাকি তাঁদের উচ্ছেদ করা হবে! দেশের জন্য যিনি নিজের জীবনদান করলেন – তাঁর পরিবারের সাথে এই ঘৃণ্য পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করার ঔদ্ধত্য নিশ্চয় বরদাস্ত করবে না এদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা-সম্পন্ন, শুভ বোধসম্পন্ন মানুষেরা। আসুন আমরা সমস্বরে আওয়াজ তুলি এই অপমান, এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে!! এই মুখচেনা গোষ্ঠীর শক্তি বিচূর্ণ করতে বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, এদেশের দায়িত্বশীল গণমাধ্যম, এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাসম্পন্ন সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

Top