ভোর ৫:০১
আগামী মাস থেকে এলএনজির সরবরাহ শুরু: নসরুল হামিদআম নয়, আঁটির উপকারিতা জেনে নিনদিল্লির নেতৃত্ব ছাড়লেন গৌতম গম্ভীরইউটিউব দেখে পার্সেল বোমা বানানো সেই শিক্ষক গ্রেফতারতারেকের বাংলাদেশি নাগরিকত্ব নেই : আইনমন্ত্রীছাত্রীকে এসিড ছোড়ার মামলায় একজনের যাবজ্জীবনপাসপোর্ট নিতে হলে অবশ্যই দেশে আসতে হবেতিনদিনের সফরে অস্ট্রেলিয়া পথে প্রধানমন্ত্রীরাষ্ট্রপতির টুঙ্গিপাড়া সফর স্থগিতবড়পুকুরিয়া কয়লাখনি শ্রমিক ও ক্ষতিগ্রস্তদের সংবাদ সম্মেলন

মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে এত কম ছবি কেন বাংলাদেশে?

ডেস্ক: গত ৪৭ বছরে বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের সংখ্যা ৫০ এর কিছু বেশি।১৯৭১ এ স্বাধীনতার পর বেশ কিছু মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ছবি তৈরি হয় – যা বাণিজ্যিকভাবে প্রদর্শিত হয়েছিল। কিন্তু সেই ধারা খুব বেশি দিন স্থায়ী হয় নি।

এখন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক চলচ্চিত্র মানেই ধরা হয় যে এগুলো বাণিজ্যিক ধারার বাইরে একরকম বিকল্প ধারার সিনেমা। কিন্তু বাণিজ্যিক নির্মাতারা এখন মুক্তিযুদ্ধকে নিয়ে খুব কমই চলচ্চিত্র তৈরি করেন। এর কারণ কী?

বাংলাদেশে বিভিন্ন সরকারের সময় মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি আর বিপক্ষের শক্তির বিতর্ক আর মুক্তিযুদ্ধের নানা ইস্যুতে মত-বিভেদ মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক চলচ্চিত্র তৈরির একটি বাধা বলে মনে করছেন এর সাথে সংশ্লিষ্টরা।মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক সিনেমা বানাতে গিয়ে বিতর্কে জড়িয়ে যাওয়ার একটি আশংকায় থাকেন নির্মাতারা।

চলচ্চিত্র নির্মাতা শাহ আলম কিরণ বলছেন, “আমাদের এখানে রাজনীতিকরন খুব বেশি। যে যখন ক্ষমতায় থাকে সে তাদের নিজেদের সম্পৃক্ততাকে উঁচু করে ধরে। যেমন ধরুন আমাদের দেশে একটা ওপেন বিতর্ক হচ্ছে স্বাধীনতার ঘোষণা কে দিয়েছে। এসব মত বিভেদ, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি আর বিপক্ষের শক্তির বিতর্কে পরিচালকরা জড়াতে চান না”

তিনি বলছেন, “যে বিএনপি করছে সে একভাবে মুক্তিযুদ্ধের সিনেমা বানায় আর যে আওয়ামী লীগ করে তার আদর্শ অনুযায়ী বানায়”এমন অভিযোগও রয়েছে যে মতে তফাত হলে অনেক সময় সেই মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক সিনেমা সেন্সরবোর্ড থেকে ছাড় পায় না।

কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র অধ্যয়ন বিভাগের প্রধান শফিউল আলম ভুঁইয়া বলছেন, অনেকটা সময় মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক চলচ্চিত্র নির্মাণকে ইচ্ছাকৃতভাবে অবহেলা করা হয়েছে।

“৪৭ বছরে মুক্তিযুদ্ধকে নানাভাবে বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী শক্তিকে আমরা ক্ষমতায় থাকতে দেখেছি। তারা যখন ক্ষমতায় ছিল সেসময় মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক চলচ্চিত্র নির্মাণকে অবহেলা করা হয়েছে। সেন্সর বোর্ড ছাড় দেয়ার ক্ষেত্রে গড়িমসি করেছে।”

তবে একই সাথে মি. ভুঁইয়া মনে করেন বাংলাদেশের বাণিজ্যিক চলচ্চিত্র নির্মাতাদের ভেতর এমন ছবি তৈরির মেধা ও যোগ্যতা নেই।”মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে তৈরি ছবি একই রকম হয়। নানান ভাবে গল্প বলার জন্য যে মেধা দরকার, গবেষণা দরকার, ফুটেজ ব্যবহারের দক্ষতা – আমাদের মেইনস্ট্রিম নির্মাতাদের তা নাই”।

১৯৭২ সালে তৈরি বাংলাদেশের প্রথম মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক ছবি ওরা এগারোজন। তার একটি দৃশ্যে ব্যবহৃত হয়েছিলো বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময়কার আসল একটি ফুটেজ। কিন্তু সেই ফুটেজটিই ঘুরে ফিরে এখনো ব্যবহার করা হয়।

বাণিজ্যিক নির্মাতারা কেন এমন ছবিতে অর্থ খরচ করেন না এমন প্রশ্নের জবাবে পরিচালক সোহানুর রহমান সোহান বলছেন, বিনিয়োগ ফেরত না আসার শঙ্কায় বাণিজ্যিক নির্মাতারা মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কাজ করেন না।

“যে টাকায় এখানে সিনেমা হয় তা দিয়ে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সিনেমা হয়না। অনেক বেশী টাকার দরকার হয়। যারা সিনেমা বানান তারা ব্যবসার জন্য তা করেন। যদি টাকা লগ্নি করে টাকা ফেরত না আসে তাহলে সে টাকা কেন খরচ করবে। কোন ছবিতেই টাকা ফেরত আসছে না”।

বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ ঘিরে সব মিলিয়ে ৫০ এর কিছু বেশি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র তৈরি হয়েছে। এর বাইরে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কিছু স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র।

কিন্তু সরাসরি মুক্তিযুদ্ধের সময়কার গুরুত্বপূর্ণ কোনো গেরিলা অভিযান, সে সময়কার নানা রাজনৈতিক ঘটনা, এর আগে ও পরের রাজনীতির পটভূমি তার কোনটাই মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক এসব চলচ্চিত্রে সেভাবে দেখা যায়না যেমনটা দেখা যায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ নিয়ে তৈরি পশ্চিমা অনেক ছবিতে।

শাহ আলম কিরণ বলছেন মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক ছবিতে দরকারি সেই সময় ব্যবহৃত অনেক সামগ্রীর অভাবে এমন ছবি তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে না। “ম্যাক্সিমাম মুক্তিযুদ্ধের ছবিতে তখনকার আর্মিদের যে পোশাক ব্যবহার করা হয়েছে তা ভুল। সেই পোশাকতো এখন আর নেই। যে অস্ত্র দিয়ে যুদ্ধ করেছিলো সেগুলোও আর পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের ব্যবহৃত গাড়িও নেই। সেসময় ব্যবহৃত এরকম আরো কিছুর অভাবেও মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক ছবি বানানো কঠিন”

সূত্র:বিবিসি বাংলা

Top