রাত ১০:২৪
পবিত্র আশুরা শুক্রবারখালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে মামলার কার্যক্রম চলবেএকজন নারী দেহরক্ষীর গোপন জীবনদুই রাষ্ট্রদূতের রাষ্ট্রপতির কাছে পরিচয়পত্র পেশসুস্থ চোখে পৃথিবীর সৌন্দয্য উপভোগ করুনটাইগারদের ভাবনায় এখন সুপার ফোরমালয়েশিয়ায় বিষাক্ত মদপানে বাংলাদেশিসহ ২১ জনের মৃত্যুতিন দিনের সফরে রংপুর গেলেন এরশাদ‘যৌনতায় অপটু’ ট্রাম্প; ফের বোমা ফাটালেন স্টর্মিসংসদে ডিজিটাল নিরাপত্তা বিল ২০১৮ পাস

অতিরিক্ত মন খারাপ বাড়াতে পারে মস্তিষ্কের জটিলতা

ডেস্ক: মন খারাপতো আমাদের সবারই একটু একটু হয়ে থাকে। কিন্তু তাকে বেশি পাত্তা দিলে ভোগান্তি বাড়তে পারে নিজেরই। তাই মন খারাপকে ছুটি দিয়ে দিন আজই। নইলে পড়তে পারেন মস্তিষ্ক জনিত জটিল সমস্যায়।

সম্প্রতি ল্যান্সেট পত্রিকায় প্রকাশিত একটি গবেষণা পত্রে এমনটা দাবি করা হয়েছে যে, দীর্ঘ সময় ধরে অবসাদের মতো রোগে ভুগলে ব্রেইনের ভিতরে প্রদাহের মাত্রা মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পায়।

ফলে স্বাভাবিকভাবেই ব্রেইন সেলের মারাত্মক ক্ষতি হয়। আর এমনটা হতে থাকলে অ্যালঝাইমারস, ডিমেনশিয়া এবং পার্কিসনের মতো জটিল মস্তিষ্কঘটিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়।

গবেষণাটি চলাকালীন বিশষজ্ঞরা লক্ষ করেছিলেন মন খারাপ যখন মাত্রা ছাড়ায়, তখন মস্তিষ্কের ভিতরে ট্রান্সলোকেটার প্রোটিনের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে, যা প্রমাণ করে যে অবসাদের সঙ্গে ইনফ্লেমেশন বেড়ে যাওয়ার গভীর যোগ রয়েছে।

প্রসঙ্গত, আমাদের দেশের যুবসমাজের মধ্যে প্রায় অধিকাংশ মানসিক অবসাদের শিকার। শুধু তাই নয়, অবসাদ বা মন খারাপের কারণে আমাদের দেশে প্রতি বছর অনেক মানুষ আত্মহত্যাও করছেন।

কিন্তু চাইলেই কি চিন্তামুক্ত হওয়া সম্ভব। অনেকে বলেন, চিন্তা আপন মনেই চলে আসে নিজের অজান্তে। ঠেকাই কি করে?

গবেষণা বলছে দুশ্চিন্তাকে দূর করা সম্ভব। দুশ্চিন্তা কমাতে অন্যতম ভূমিকা রাখে নিয়মিত ডায়েট। নিয়মিত কিছু খাবার খাদ্য তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করে নিলেই এই ব্যাধি থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।  যেমন-

অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার: এটি এমন একটি উপাদান যা নানাভাবে শরীরের উপকারে লেগে থাকে। শুধু তাই নয়, মন খারাপ, অ্যাংজাইটি এবং ডিপ্রেশনের মতো ভয়ঙ্কর রোগকে দূরে রাখতেও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই এমন চাপমুক্ত পরিবেশে নিজের মনকে প্রফুল্ল রাখতে চেরি, আঙুর এবং সবুজ শাক-সবজির মতো খাবার বেশি করে খেতে হবে।

মাছ: প্রতিটি বাঙালি বাড়িতেই এখনও প্রতিদিন মাছ রান্নার রেওয়াজ রয়েছে, যে কারণে খেয়াল করে দেখবেন ব্রেন পাওয়ারের দিক থেকে বাঙালি অনেকের থেকেই বেশ এগিয়ে রয়েছে। আসলে মাছে উপস্থিত ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড, ভিটামিন বি, বি৬ এবং বি১২ এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। শুধু তাই নয়, এই উপাদানগুলি মানসিক অবসাদের মতো রোগের আক্রমণ থেকে বাচ্চাদের বাঁচাতেও নানাভাবে সাহায়তা করে থাকে।

সাইট্রাস ফল: পাতি লেবু, কমলা লেবু মত সাইট্রাস ফলের শরীরে মজুত রয়েছে প্রচুর মাত্রায় ভিটামিন সি, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং প্রাকৃতিক সুগার, যা অতিরিক্ত হরমোনের ক্ষরণ তো কমাবেই, সেই সঙ্গে মানসিক অবসাদকে দূরে রাখতেও বিশেষ ভূমিকা নেয়। তাই তো বাচ্চাদের প্রতিদিন এক বাটি করে ফল খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকেরা।

টমেটো: এতে উপস্থিত লাইকোপেন নামক এক ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরে প্রবেশ করার পর মন খারাপকে একেবারেই নির্মূল করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। ফলে মানসিক অবসাদের মতো ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে সময় লাগে না। এই কারণেই তো যাদের খুব চাপি নিয়ে কাজ করতে হয়, তাদের প্রতিদিন একটা করে কাঁচা টমাটো খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকেরা।

ভিটামিন ডি: বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে শরীরে এই বিশেষ ধরনের ভিটামিনটির ঘাটতি দেখা দিলে অবসাদের মতো সমস্যা মাথা চাড়া দিয়ে ওঠার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। এই কারণেই তো নিয়মিত কিছু সময় গায়ে রোদ লাগানোর পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকেরা। কারণ সূর্যের আলো গায়ে লাগলে দেহের অন্দরে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি দূর হতে সময় লাগে না। যে যে খাবারে এই ভিটামিনটি প্রচুর পরিমাণে থাকে, সেগুলি হল মাশরুম, সয়ামিল্ক, ডিম প্রভৃতি।

বাদাম: এতে রয়েছে প্রচুর মাত্রায় ভিটামিন বি২, ভিটামিন ই, ম্যাগনেসিয়াম এবং জিঙ্ক। এই সবকটি উপাদান সেরাটোনিন হরমোনের ক্ষরণ বাড়িয়ে দেয়। সেই সঙ্গে শরীরে উপস্থিত ক্ষতিকর টক্সিক উপাদানদের বার করে দেয়। ফলে কোনওভাবেই অবসাদ ধারে কাছে ঘেঁষতে পারে না।

রসুন: এতে উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের ভিতরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের মাত্রা কমানোর মধ্যে দিয়ে অবসাদ কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। শুধু তাই নয়, ছোট থেকেই নিয়মিত রসুন খাওয়ার অভ্যাস করলে হার্টের কর্মক্ষমতা যেমন বৃদ্ধি পায়, তেমনি ডায়াবেটিসের মতো রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও কমে।

দই: স্কুল থেকে ফেরার পর প্রতিদিন যদি আপনার বাচ্চাকে এক বাটি করে দই খাওয়াতে পারেন, তাহলে তাদের শরীরে সরোটোনিন হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে যায়, যা অবসাদ কমানোর পাশাপাশি ব্রেইন পাওয়ার বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। আর একবার ব্রেইন পাওয়ার বেড়ে গেলে অ্যাংজাইটির মতো সমস্যা কো কমেই, সেই সঙ্গে পড়াশোনাতেও উন্নতি ঘটে।

Top