মধু উৎপাদন বৃদ্ধি ও মৌমাছির নতুন প্রজাতি উদ্ভাবনে গবেষণা করুন : কৃষিমন্ত্রী

ডেস্ক : মধুর চাহিদা মেটানোর লক্ষ্যে এর উৎপাদন বৃদ্ধি এবং দেশের পরিবেশ ও জলবায়ু অনুযায়ী মৌমাছির নতুন প্রজাতি উদ্ভাবনে গবেষণার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী।
তিনি বলেন, ‘মধুর চাহিদা মেটাতে এর উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য মৌমাছির নতুন-নতুন প্রজাতি আনুন। তবে আমাদের পরিবেশে যে মূল মৌমাছি রয়েছে তাদের টিকিয়ে রাখতে এবং বিভিন্ন নতুন প্রজাতির মৌমাছি উদ্ভাবনে মৌমাছি নিয়ে কাজ করা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গবেষণা বাড়াতে হবে।’
আজ রোববার দুপুরে ফার্মগেটের আ. কা. মু গিয়াস উদ্দীন মিলকী অডিটোরিয়ামে কৃষি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ১৮-১৯ ফেব্রুয়ারি দুই দিনব্যাপী আয়োজিত ‘জাতীয় মৌ মেলা-২০১৮’এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষিমন্ত্রী এই আহ্বান জানান।
বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেন, ‘নিয়মিত মধু সেবন মানবদেহের দীর্ঘ মেয়াদী সুস্থতার ভিত্তি তৈরী করে। মৌমাছি জীব বৈচিত্র সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। সব বয়সের মানুষ মধু খেতে পারে। মধু উৎপাদনের ক্ষেত্রে সেসরকারী খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।’
তিনি রাস্তার পাশে গাছ লাগানোর সময় সেখানে যাতে মৌমাছি ও পাখি থাকতে পারে এমন বৃক্ষ রোপনের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এখন দানাদার খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পন্নতা অর্জন করেছে। এখন আমরা অন্য ফসল উৎপাদনের দিকে গুরুত্ব দিচ্ছি। গুরুত্ব দিচ্ছি বলেই আমরা ২০১৬ সালে প্রথম মৌ মেলার আয়োজন করি। তিনি রাণী মৌমাছিকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণেরও তাগিদ দেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) মহাপরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ মহসীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ, সাবেক প্রতিমন্ত্রী এ এফ এম ফখরুল ইসলাম মুন্সী প্রমুখ বক্তব্য দেন।
স্বাগত বক্তব্য রাখেন ডিএই-এর হর্টিকালচার উইংয়ের পরিচালক কৃষিবিদ মিজানুর রহমান। ‘বাংলাদেশে মৌচাষ সম্প্রসারণ, সমস্যা ও সম্ভবনা’ শীর্ষক মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ব বিভাগের অধ্যাপক সাখাওয়াত হোসেন ও বিসিকের মৌচাক উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক খন্দকার অলিমুজ্জামান।
এর আগে সকালে এ উপলক্ষে একটি শোভাযাত্রা সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা থেকে শুরু হয়ে ফার্মগেটের আ. কা. মু গিয়াস উদ্দীন মিল্কী অডিটোরিয়াম চত্বরে এসে শেষ হয়।
কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী মেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলেন। মেলায় সরকারি-বেসরকারি ৫৪টি প্রতিষ্ঠানের ৬০টি স্টল স্থান পেয়েছে। গতবার মেলায় স্টল ছিল ৩৬টি। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চাষ করা সরিসা, ধনিয়া, তিল, কালোজিরা, লিচু এসব ফসলে মৌ চাষ, মধু আহরণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।
উল্লেখ্য, মেলা রোব ও সোমবার প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সকলের জন্য খোলা থাকবে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, অনেক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় তিন হাজার থেকে পাঁচ হাজার টন মধু উৎপাদন হয়। উৎপাদিত মধুর শতকরা ৯০ ভাগ আসে মেলিফেরা প্রজাতির মৌ খামার থেকে।
মৌচাষি কল্যাণ সমিতির তথ্য মতে, বর্তমানে সারাদেশে প্রায় ৫০০টির অধিক মৌ খামার এবং ৫০ হাজারের অধিক মৌবাক্স রয়েছে।
মৌচাষ হতে আয় সম্পর্কে কৃষি পরিসংখ্যান ২০১৬ সালের তথ্য দিয়ে অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বাংলাদেশে সরিষা আবাদিত জমির পরিমাণ ৩ লাখ ১৮ হাজার ৬৩৩ হেক্টর। প্রতি হেক্টরে কমপক্ষে মৌচাষের জন্য তিনটি করে বাক্স স্থাপন করলে মৌবাক্সের সংখ্যা দাঁড়ায় ৯ লাখ ৫৫ হাজার টি। সেখানে সারাদেশে মাত্র ৫০ হাজার টি মৌবাক্স স্থাপন করা সম্ভব হয়েছে। এই ৫০ হাজার বাক্স থেকে আহরিত মধুর পরিমাণ ছিল ১৫০০ টন। যার আন্তর্জাতিক বাজার মূল্য ২৫ দশমিক ৫ (সাড়ে ২৫) কোটি টাকা।