রাত ১:৩৩
প্রধান তথ্য কমিশনার মরতুজা আহমদের যোগদানবড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে নিয়োগের দাবিতে সংবাদ সম্মেলনরাশিয়ায় তাপমাত্রা মাইনাস ৬৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস!মৃত্যুপরবর্তী কাজে স্বজনদের বিরক্ত না করতে উৎসবপ্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে ২০ প্রতিষ্ঠানের অনুদান প্রদানপাঁচ দিনের সফর শেষে দেশে ফিরলেন প্রণব মুখার্জিবিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব আগামীকাল থেকে শুরুনির্যাতনের শিকার পূর্ণিমা শীলকে নিয়োগ দিলেন তথ্য প্রতিমন্ত্রীনিষেধাজ্ঞা উঠে গেল চার রাজ্যেযশোরে শতবর্ষী গাছ কাটার সিদ্ধান্ত হাইকোর্টে স্থগিত

লিলিপুটদের প্রাচীন গ্রাম

ডেস্ক: জোনাথন সুইফটের গালিভার ট্রাভেলসের গল্প নিশ্চয়ই অনেকেই জানেন। গালিভার একবার লিলিপুটদের দেশে চলে গিয়েছিল যেখানে বেশিরভাগ মানুষের উচ্চতা ছিল ১৫ সেন্টিমিটার।

যদিও গালিভার ট্রাভেলসের সেই লিলিপুট গ্রাম শুধু কল্পকাহিনীতেই সীমাবদ্ধ ছিল কিন্তু  বাস্তবে  মাখুনিক নামে এমনই একটি গ্রাম আছে পূর্ব ইরানে। আফগানিস্তানের সীমান্ত ঘেষে গ্রামটির অবস্থান। ঐতিহাসিকদের মতে, গ্রামটি প্রায় দেড় হাজার বছরের পুরনো। এখানকার মানুষ ইরানের স্বাভাবিক উচ্চতার মানুষের চেয়ে কমপক্ষে ৫০ সেন্টিমিটার খাটো।

২০০৫ সালে এই গ্রামে গবেষকরা ২৫ সেন্টিমিটার উচ্চতার একটি মমি খুঁজে পান। তারপর থেকে তারা বিশ্বাস করেন, মাখুনিকসহ আশেপাশের গ্রামে একসময় বেটে মানুষদের বসবাস ছিল।

প্রত্নতত্ত্ববিদরা এই গ্রাম নিয়ে অনেক গবেষণা করেছেন। বাড়িগুলোর আকার-আকৃতিই বলে দেয় যে, সেখানকার মানুষ ছোট আকৃতির ছিল। এর প্রমাণও মিলেছে পরে। প্রত্নতত্ত্ববিদরা সেখানে প্রথম দফায় মোট ৮০০টি কবরের সন্ধান পেয়েছেন। সেই কবরগুলোতে যেসব কঙ্কাল বা দেহের অবিশিষ্টাংশ পাওয়া গেছে, সেগুলোর সবই একেবারে বামন আকৃতির মানুষের।  গবেষকদের মতে,গ্রামটিতে বসবাসকারী মানুষগুলোর গড়া উচ্চতা ছিল ৩ ফুট।

গবেষকরা বলছেন, দুর্গম পাহাড়ের ফাঁকে অবস্থিত এই গ্রামের মানুষ খর্বকায় হওয়ার অন্যতম কারণ অপুষ্টি। কারণ সেইরকম কোন পুষ্টিকর খাবারই এরা খেতে পেত না। এছাড়া নিকটআত্মীয়ের সঙ্গে বিয়ে, পারদযুক্ত দুষিত পানি পানের কারণেও এখানকার অধিবাসীদের আকৃতি কম বলে তারা মনে করছেন। এই গ্রামে এখন সাতশো জন অধিবাসী রয়েছেন। তারা তাদের পূর্বপুরুষদের মতো অতটা খাটো নন। তবে তাদের বাড়িগুলো পূর্ব পুরুষদের মতোই। পাহাড়ের ফাঁকে ফাঁকে প্রাচীন নকশার ছোট উচ্চতার বাড়িতে তারা অবস্থান করেন।

১৯৪৬ সালে গ্রামটির অস্তিত্ব আবিষ্কার হয়। ধীরে ধীরে পাহাড়ের ভেতর দিয়ে রাস্তাও তৈরি হয়। বাইরে থেকে যানবাহনের যাতায়ত শুরু করে। মানুষের জীবনযাত্রাও কিছুটা পাল্টাতে থাকে। তারপরও এখানকার মানুষের জীবনযাত্রা সহজ নয়।

এখানকার বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিরা পুরনো রীতির পোশাক পরতে ভালোবাসেন। বিদ্যুতের চেয়ে আগুনের ব্যবহারেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন তারা।

গ্রামটিতে মাত্র একটিই স্কুল রয়েছে। প্রতিদিন সন্ধ্যায় সেখানকার মসজিদে ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণ করে মাখুনিকের শিশু-কিশোর ও তরুণরা। এ ছাড়া তারা স্থানীয় স্কুলে অন্যান্য শিক্ষাও গ্রহণ করে। নিজেদের গ্রামটিকে ভালোবাসে মাখুনিকের মানুষেরা। এখানকার তরুণরা কাছের কোন শহরে কাজের প্রয়োজনে গেলে অর্থ উপার্জন করে, খাবার কিনে আবার গ্রামেই ফিরে আসে।

Top