রাত ১:২০
প্রধান তথ্য কমিশনার মরতুজা আহমদের যোগদানবড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে নিয়োগের দাবিতে সংবাদ সম্মেলনরাশিয়ায় তাপমাত্রা মাইনাস ৬৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস!মৃত্যুপরবর্তী কাজে স্বজনদের বিরক্ত না করতে উৎসবপ্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে ২০ প্রতিষ্ঠানের অনুদান প্রদানপাঁচ দিনের সফর শেষে দেশে ফিরলেন প্রণব মুখার্জিবিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব আগামীকাল থেকে শুরুনির্যাতনের শিকার পূর্ণিমা শীলকে নিয়োগ দিলেন তথ্য প্রতিমন্ত্রীনিষেধাজ্ঞা উঠে গেল চার রাজ্যেযশোরে শতবর্ষী গাছ কাটার সিদ্ধান্ত হাইকোর্টে স্থগিত

বাংলাদেশে গণহত্যা: স্বীকৃতির সুযোগ কি হারাবো?

নাদীম কাদির: ‘গণহত্যা’ শব্দটি বাংলাদেশের ৯ মাসের স্বাধীনতা যুদ্ধকালে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর নিষ্ঠুরতার আরেক নাম। রাখাইনে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর নৃশংসতার কারণে এখন তা মিয়ানমারের নামের সঙ্গেও জড়িয়ে গেছে।
জাতিসংঘসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা রাখাইন রাজ্যে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর এই বর্বরতাকে ‘জাতিগত নিধন’ থেকে ‘গণহত্যা’ বলে বর্ণনা করেছে। এই নিষ্ঠুরতায় ভীত হয়ে জাতিসংঘ তদন্তকারীরা বিষয়টি ‘দ্য হেগে’র আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
আমি যেদিকটা ইঙ্গিত করতে চাচ্ছি তা হলো, আমাদের কূটনীতিকরা বড় বড় ইস্যুতে কথা বলতে ওস্তাদ হলেও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে এসবের ইতিবাচক কোনও প্রভাব নেই। সবাই জানে, যারা কূটনীতিকদের সুনজরে থাকে না তাদের প্রতি অন্যায় না করলেও বিভিন্নভাবে ছোট করার চেষ্টা চালায়। যারা অন্যান্য মন্ত্রণালয় থেকে প্রেষণে বিদেশে আমাদের দূতাবাসগুলোতে যান তারা এই বিষয়টি খুব ভালো করেই জানেন।

পুরো বিশ্ব রাখাইন রাজ্যে গণহত্যার নিন্দা করলেও আমার দৃষ্টিতে আমাদের কূটনীতিকরা ১৯৭১ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ‘গণহত্যা’কে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগটি সম্ভবত হারিয়েছেন। তারা এ নিয়ে বিভিন্ন সময় কথা বলেছেন কিন্তু কোনও ফল আসেনি। সর্বশেষ ‍দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে সেনাবাহিনীর অত্যাচার থেকে বাঁচতে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য একটি যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের বিষয়ে ঐক্যমত হয়েছে। তবে এই চুক্তি সেখানে স্থায়ী সমাধান দেবে কিনা তা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।

তারা আমাকে বলেছেন, রাখাইনে সেনা অভিযান বন্ধ না হলে এবং ফিরে যাওয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না হলে এমন ঘটনা চলতেই থাকবে।

রোহিঙ্গা গণহত্যা ও বাংলাদেশে গণহত্যার মধ্যে যেসব মিল রয়েছে:

নির্বিচার ও পদ্ধতিগত হত্যা: পাকিস্তান সেনাবাহিনী বাংলাদেশে ১৯৭১ সালে একই কাজ করেছে। তারা পুরুষ, নারী ও শিশুদের নির্বিচারে হত্যা করেছে। একই সঙ্গে ১৬ ডিসেম্বরের আগ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন গ্রামের নেতা ও পেশাজীবীদের পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। বাঙালির স্বাধীনতার ইচ্ছেকে দমন করতে সামরিক অভিযানের শুরুর প্রথম সপ্তাহে বন্দর নগরী চট্টগ্রামের রাস্তায় এলোমেলোভাবে পড়ে থাকার লাশের কথা আমার মনে আছে।

মিয়ানমার থেকেও একই ধরনের প্রতিবেদন

শিশুদের হত্যা করার মাধ্যমে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী রোহিঙ্গাদের উপস্থিতি মুছে ফেলার চেষ্টার সঙ্গেও পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মিল রয়েছে। তারা ৯ মাসে বাংলাদেশে অন্তত আড়াই লাখ নারীকে ধর্ষণ করেছে, যার অন্য কোনও নজির ইতিহাসে নেই। এই ধর্ষণের একমাত্র লক্ষ্য ছিল একটা আধা-পাঞ্জাবি প্রজন্ম তৈরি করা। যারা জন্মের পর নিজ দেশেই সংখ্যালঘুতে পরিণত হবে। মিয়ানমার সেনাবাহিনীও এই কৌশলটি হুবহু প্রয়োগ করেছে।

কর্মক্ষম মানুষ বিশেষ করে যুবক ও শক্তিশালীদের ধরে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হত যাতে মুক্তিযোদ্ধারা দুর্বল হয়ে পড়েন। মিয়ানমারও একই কাজ করছে।

জাতিসংঘ, মানবাধিকার গ্রুপ ও সংবাদমাধ্যমকে রাখাইন যেতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কিছু সংগঠন ও সংবাদমাধ্যমকে নিয়ে আসলেও তাদের গোয়েন্দাদের মাধ্যমে ঘিরে রাখা হত। এখানেও দুই দেশের মধ্যে মিল রয়েছে।

সামরিক বাহিনীর মিথ্যা প্রচার চালিয়েছিল দুর্বৃত্ত বা ভারতের দালালদের হত্যা করছে কিন্তু আসলে মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করা হয়েছিল। রাখাইন রাজ্যের অবস্থাও একই।

ঢাকা ও ইয়াঙ্গুনের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সংলাপের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের জন্য বলে আসছে রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের বিপক্ষে থাকা চীন।

এভাবে আমাদের কূটনীতিকদের অবশ্যই বাস্তব সম্মতভাবে মিথ্যা হাসিমুখের পরিবর্তে মিয়ানমারের পাশাপাশি পাকিস্তানের গণহত্যাকেও আন্তর্জাতিক ইস্যু বানাতে হবে।

আমরা স্বাধীনতার ৪৬ বছর পরে এই সুযোগ হারাতে চাই না। নইলে তা আমাদের আবারও হতাশার কারণ হবে।

লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

Top