সকাল ৭:০১
12-12-2017Issueওয়ান প্লানেট শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে প্যারিসের পথে প্রধানমন্ত্রীশহীদ সাংবাদিক সিরাজুদ্দীন হোসেনের অপহরণ দিবস আজটাঙ্গাইল হানাদার মুক্ত দিবস আজরাষ্ট্রপতি ওআইসির সম্মেলনে যাচ্ছেন আজওয়ান প্লানেট শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে প্যারিসের পথে প্রধানমন্ত্রী11-12-2017Issueনিরাপত্তা ঝুকির চিঠি উপেক্ষাঃ উত্তরা নাটোর টাওয়ারে ভয়াবহ অগুন10-12-2017 issueবিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে আশুলিয়ায় স্বেচ্ছাসেবক লীগের যৌথ আলোচনা সভা

পাল্টে যাচ্ছে বেদেদের জীবনযাত্রা

সুমন জাহিদ: ‘আমার নাম গায়া বাইদ্যা, থাকি পদ্মার পার।’ ‘আমার নাম চম্পাবতী, আমারা সাপ খেলা দেখাই।’ “মোরা এক ঘাটেতে রান্দি বাড়ি আরেক ঘাটে খাই, মোদের সুখের সীমা নাই, পথে ঘাটে ঘুরে মোরা সাপ খেলা দেখাই, মোদের ঘর বাড়ি নাই”। বাংলা চলচিত্র “বেদের মেয়ে” এর গান এটা। জলবায়‍ুর বিরূপ প্রভাবে পাল্টে যাচ্ছে বেদেদের জীবনযাত্রা।
বেদেরা যাযাবর জাতি। তারা সাধারণত নদীর আশপাশে সমতল ভূমিতে মাচা করে বসবাস করে। তবে নৌকায় বসবাসই তাদের ঐতিহ্য। যাযাবর বলেই এদের জীবন বৈচিত্র্যময়।  বেদে সম্প্রদায়ের নারীরা যথেষ্ট শ্রম দেয়। নারীদের মমত্ববোধ, প্রেম-ভালোবাসা লোক-কাহিনীতে অমূল্য সংযোজন। প্রাগৈতিহাসিক কাল ধরেই মনুষ্য চিত্তাকর্ষণ করার লক্ষ্যে তারা বিভিন্ন চটুল গান রচনা করেছেন। এটা করতে বেদে নারীদের শরীরী ভাষাও প্রকাশ হয়েছে। তাদের শরীরী ভাষা প্রকাশের শিল্পিত উপস্থাপন যা সহজেই অন্যকে প্রলুব্ধ করে। গানের ভাষায় উঠে এসেছে তাদের নিত্যকার জীবনে ব্যবহার্য জিনিসের নাম, সাপের নাম, বিভিন্ন উপাসক দেব-দেবীর নাম, বিপরীত লিঙ্গ স্তবক, বিরহ, বৈরাগ্য প্রভৃতি।
এই হেমন্তে ফসল ওঠার মৌসুম থেকে শুরু করে পুরো শীত ও বসন্ত জুড়ে হাটবারে বেদে নারীরা দলবদ্ধভাবে  জীবিকার জন্য হাটে হাটে আর অন্যান্য দিনে গ্রামে গ্রামে ঘুরে বেড়ায়। এ সময় বেদে নারীদের সঙ্গে সাপের ঝাঁপি ও ওষুধের ঝুলি থাকে। হাটবাজারে সাপের খেলা দেখিয়ে ও ওষুধ বিক্রি করে অর্থ উপার্জন করে থাকে। তাছাড়া দাঁতের পোকা তোলা, সিঙ্গা ফুঁকা, শরীরে উল্কি এঁকেও তারা আয় করে। এ সময় বেদেনীরা বেশ সাজগোজ করে, কোমরে বিছা আর গায়ে ইমিটেশন গহনা পরে, খোঁপায় ফুল গুঁজে রাখে। আমাদের সমাজের প্রচলিতধারনা, মানুষকে আকর্ষণ করার জন্যই তারা এমন সাজগোজ করে। বছরের অন্য সময় মূলত বেদেনারীরা এক  গ্রাম থেকে আরেক গ্রাম ঘুরে এসব কাজ করে থাকে গ্রামই তাদের ব্যবসার মূল কেন্দ্রস্থল। কিন্তু গ্রামগুলোতে আধুনিকতার  তাদের ব্যবসায় এখন মন্দা। সময়ের আবর্তে উন্নতির পরিবর্তে বেদে সমাজের জীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্দিন। নদীর রূপ বদলের সঙ্গে সঙ্গে তাদের চলার পরিধি ছোট হয়ে আসছে৷ আর তাই তারা অনেকেই ছাড়তে শুরু করেছে নদী। নদী ছেড়ে কোথায় যাবে এই বেদেরা। তাদের নেই কোন শিক্ষা, নেই কোন কাজের বিশেষ যোগ্যতা।
বাংলাদেশের সমাজে শ্রেণি বিভাজন না থাকলেও বেদেদের দেখা হয় কিছুটা আলাদা চোখে। আর তাই সমাজের মূলস্রোতে মেশাটাও খুব একটা সহজ নয় তাদের জন্য। তবে বেদেরা হারিয়ে গেলে বাংলাদেশের পুরাতন ঐতিহ্য আর সংস্কৃতির একটি অংশ হারিয়ে যাবে। কারণ তারা যাযাবর একটি উপজাতি হলেও কোনভাবেই মূল বাঙালি সংস্কৃতি থেকে বিচ্ছিন্ন নয়।
বর্তমানে তারা খুব দ্রুতই পানি ছেড়ে ডাঙ্গায় আবাস গড়তে শুরু করেছে। অথচ এক দশক আগেও পুরো  বেদে সম্প্রদায় বাস করতো পানিতে। খুব শিগগিরিই হয়তো তেমন দিন আসবে, যখন আর কোন বেদেকে নৌকাবাড়িতে করে নদীপথে ঘুরতে দেখা যাবেনা!

Top