সকাল ৬:৫৯
12-12-2017Issueওয়ান প্লানেট শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে প্যারিসের পথে প্রধানমন্ত্রীশহীদ সাংবাদিক সিরাজুদ্দীন হোসেনের অপহরণ দিবস আজটাঙ্গাইল হানাদার মুক্ত দিবস আজরাষ্ট্রপতি ওআইসির সম্মেলনে যাচ্ছেন আজওয়ান প্লানেট শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে প্যারিসের পথে প্রধানমন্ত্রী11-12-2017Issueনিরাপত্তা ঝুকির চিঠি উপেক্ষাঃ উত্তরা নাটোর টাওয়ারে ভয়াবহ অগুন10-12-2017 issueবিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে আশুলিয়ায় স্বেচ্ছাসেবক লীগের যৌথ আলোচনা সভা

সবচেয়ে বেশি যৌতুকের বলি ভারতে

ডেস্ক : ভারতে পণপ্রথার কারণে নববধূর মৃত্যুহার বিশ্বে সর্বাধিক৷ ২০১৫ সালে ৭৬ হাজারেরও বেশি নববধূকে পুড়িয়ে মারা হয় কিংবা নির্যাতনের মুখে আত্মহত্যায় বাধ্য করা হয়৷ অভিযুক্তদের মাত্র ৩৫ শতাংশের সাজা হয়েছে৷

এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, বরপক্ষের দাবিমতো পণ না দিতে না পারার কারণে গোটা ভারতে প্রতিদিন গড়ে প্রাণ হারাতে হয় ২০ জন নববধূকে৷ রাজধানী দিল্লিতেই গত কয়েক বছরে পণপ্রথার কারণে প্রাণ হারান ৭১৫ জন নববধূ৷ এই সংখ্যা ক্রমশই উর্ধ্বমুখী৷ এ বছরের অক্টোবর মাস পর্যন্ত পণ সংক্রান্ত কারণে ১০৫ জন নববধূর প্রাণ হারান৷ এই কুপ্রথা এক সামাজিক সংক্রমণের মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ এখানে ধনী-দরিদ্র নেই, শিক্ষিত-অশিক্ষিত বা শহর-গ্রামের প্রশ্ন নেই৷ মানুষের অর্থলোলুপতাই একমাত্র কারণ বলে মনে করেন সমাজবিদরা৷ শুধু তাই নয়, পরিবারের সামাজিক অবস্থানের ভিত্তিতে গয়না, নগদ অর্থ কিংবা বিলাসবহুল গাড়ি থেকে জমি, গরু, মহিষ কিছুই বাদ যায় না৷ না দিলে সমাজে বরপক্ষের মান থাকে না– এই ধরনের মানসিকতা এর পেছনে কাজ করে৷

জাতি, ধর্ম নির্বিশেষে হিন্দু, মুসলিম সব সমাজেই পণপ্রথা পারিবারিক হিংসার এক বড় কারণ৷ পাকিস্তান বা বাংলাদেশেও তা বাড়ছে বলে সংবাদ মাধ্যমের সমীক্ষায় উঠে এসেছে, যদিও মুসলিম ধর্মে পণপ্রথা নিষিদ্ধ৷

কয়েকদিন আগে দিল্লির ঘটনা৷ উচ্চ-শিক্ষিতা ২৮ বছরের এক নারী৷ দিল্লির আইআইটি থেকে সিভিল ইঞ্জিনীয়ারিংয়ে পিএইচডি-র ছাত্রী মঞ্জুলা দেবক ইনস্টিটিউটের হস্টেলে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করলেন৷ আত্মহত্যার আগে মঞ্জুলা তাঁর এক বান্ধবীকে হোয়াটস-অ্যাপে সবকিছু জানিয়েছিলেন৷ বলেছিলেন, তাঁর স্বামী নতুন ব্যবসা শুরু করার কারণ দেখিয়ে তাঁর বাপের বাডি থেকে ২৫ লাখ টাকা আনার জন্য চাপ দেয়৷ টাকা না পেলে ডিভোর্স করার হুমকি দেয়৷ মেয়ের আত্মহত্যার পর মঞ্জুলার বাবা মাথা চাপড়ে আর্তনাদ করেন, মেয়েকে উচ্চশিক্ষার জন্য টাকা খরচ না করে ঐ টাকা বিয়ের যৌতুকের জন্য রাখলে হয়ত মেয়ের প্রাণটা বাঁচতো! পুলিশ মঞ্জুলার স্বামী রীতেশকে ভোপাল থেকে গ্রেপ্তার করেছে৷

দিল্লির লাগোয়া উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদে পণের দাবিতে বৌয়ের গায়ে অ্যাসিড ঢেলেপুড়িয়ে মারে তাঁর স্বামী৷ পুলিশ তাঁর স্বামীকে অবশ্য গ্রেপ্তার করেছে৷ এই ধরনের পাশবিক ঘটনার অন্ত নেই৷ স্কুল শিক্ষিকা সংগীতা ভার্মাকে শ্বশুর বাড়ির লোকেরা জীবন্ত পুড়িয়ে মারে গত এপ্রিলে৷

এমন অসংখ্য ঘটনা৷ তার মধ্যে পুলিশ ৯৪ শতাংশের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিলেও দোষী সাব্যস্ত হয় ৩৫ শতাংশেরও কম৷ অবশিষ্ট মামলা বিভিন্ন আদালতে ঝুলে থাকে বছরের পর বছর৷ পুলিশের চার্জশিটে বধূ হত্যা কিংবা স্বামী বা শ্বশুরবাড়ির অন্য লোকেরা দিনের পর দিন শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে নববধূকে আত্মহত্যার পথে ঠেলে দেবার উল্লেখ করা হয়৷ পুলিশ বিভাগের প্রাপ্ত তথ্য বলছে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে হত্যা করা হয় জীবন্ত পুড়িয়ে৷ বধূর গায়ে কেরোসিন বা পেট্রোল কিংবা অ্যাসিড জাতীয় দাহ্য তরল ঢেলে৷ কারণ, পুড়িয়ে মারলে খুনের ঘটনা প্রমাণ করা শক্ত৷

জাতীয় অপরাধ ব্যুরোর রেকর্ড অনুসারে, গত তিন বছরে পণপ্রথার কারণে প্রাণ হারাতে হয়েছে প্রায় ২৫ হাজার নববিবাহিত বধূকে৷ সবথেকে বেশি হয়েছে ভারতের উত্তরপ্রদেশ রাজ্যে– ৭০৪৮ জন৷ তারপর বিহার ও মধ্যপ্রদেশে, যথাক্রমে ৩৮২০ এবং ২২৫০ জন৷ স্বামী বা শ্বশুর বাড়ির লোকেদের হাতে দৈহিক ও মানসিক পীড়নের অভিযোগের সংখ্যা সাড়ে তিন লাখের মতো৷ সবথেকে বেশি পশ্চিমবঙ্গে– ৬১ হাজারেও বেশি৷ তারপর রাজস্থানে৷ সংসদে এই তথ্য জানান মহিলা ও শিশু বিকাশ মন্ত্রী মানেকা গান্ধী৷

দেশের আইন এ ব্যাপারে কী বলছে ? ১৯৬১ সালের পণপ্রথা বিরোধী আইনে বিবাহে পণ দেওয়া বা নেওয়া নিষিদ্ধ হয়৷ কিন্তু তাতে ইতরবিশেষ কিছু হয়নি৷ সমাজে প্রচলিত বিবাহ ব্যবস্থায় আইনের ছাপ পড়েনি মোটেই৷ বিয়েতে রাজি হবার শর্তই হলো পণ দেওয়া বা নেওয়া, যেটাকে ভদ্র মোড়কে বা পোষাকি ভাষায় বলা হয়ে থাকে ‘উপহার’৷ বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আইনে অনেক ফাঁক রয়ে গেছে৷ সেগুলি দূর করে পণপ্রথা বিরোধী আইন আরও কঠোর করা দরকার৷ সেজন্য ১৯৮৩ সালে পণ বিরোধী আইন সংশোধন করা হয়৷ বাঞ্ছিত ফল তবু রয়ে গেছে অধরা৷ আসলে অপরাধীদের শাস্তিদানের আইনি প্রক্রিয়ার গোড়ায় গলদ৷ শুরুতে তদন্ত কাজে ঢিলেমি দেবার জন্য বিচার প্রক্রিয়ার গতি হয়ে পড়ে মন্থর৷ অবশ্য এর অন্য একটা দিকও আছে৷ কিছু কিছু ক্ষেত্রে দেখা গেছে, মেয়েপক্ষ কিংবা পুলিশ পণবিরোধী আইনের অপপ্রয়োগ করেছে৷ বিষয়টি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ায়৷ গত অক্টোবর মাসে শীর্ষ আদালত পণ নেবার অভিযোগে চটজলদি কাউকে গ্রেপ্তার নিয়ন্ত্রিত করার সাময়িক নির্দেশ দেন৷ চূড়ান্ত রায় এখনও দেননি সুপ্রিম কোর্ট৷ সূত্র : ডয়েচে ভেল

Top