রাত ৮:৩৫
রোজা ও ঈদের পর আবারও মঞ্চ নাট্যাঙ্গন কর্মব্যস্তশপিং মল থেকে লাফ দিয়ে গরুর আত্মহত্যা!আগাম মৃত্যুর খবর দেন যে নারী!এশিয়ান গেমস সামনে রেখে প্রস্তুত হচ্ছে ফুটবল দলথিয়াগো সিলভাকে অপমান করেছেন নেইমার!জার্মানিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে আহত ২৫, ভবন ধস‘আমাদের মেসেজ হলো শান্তিপূর্ণ নির্বাচন’মার্ক বাংলাদেশ শেয়ার কেলেঙ্কারি : আসামিদের জেল-জরিমানাফটিকছড়িতে শতবর্ষী সেতু দিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্নপ্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সেনাপ্রধানের বৈঠক

৩৪তম বিসিএসে আপন ২ ভাই ২ জেলার এএসপি

হারুন অর রশিদ, ঠাকুরগাঁওঃ

৩৪তম বিসিএসে ঠাকুরগাঁও জেলা বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার আপন দুই ভাই এএসপি হয়েছেন। বড় ভাইয়ের নাম মো. হুমায়ুন কবির। ছোট ভাইয়ের নাম শাহীনুর ইসলাম শাহীন। বড় ভাই হুমায়ুন কবির শেরপুর জেলার সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে কর্মরত। আর ছোট ভাই শাহীন কুড়িগ্রামের সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে কর্মরত।

ঠাকুরগাঁয়ের বালিয়াডাঙ্গীর প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুল বারেক ও শামসুন্নাহার দম্পতির এই দুই সন্তান আলোর দিশারি হয়েছেন। তাদের দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছেন অনেকে। মা শামসুন্নাহার ও বাবার অনুপ্রেরণা ও আত্মত্যাগের কারণেই আজ তারা এই অবস্থানে আছে বলে উল্লেখ করেছেন পুলিশ কর্মকর্তা আপন দুই ভাই।  বয়সে দুই বছরের ছোট-বড়। আপন ভাই হলেও আচরণে পুরোপুরি ভিন্ন তারা। বড় ভাই ঠিক যতোটা ধীরস্থির শান্ত, ছোট ভাই ততোটাই দুরন্ত স্বভাবের। দুই ভাই  বালিয়াডাঙ্গী পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ে পড়লেও কলেজ ছিল ভিন্ন। বড় ভাই হুমায়ুন পড়েছেন দিনাজপুর সরকারি কলেজে, আর পরিবারের ছোট ছেলেটিকে বাবা ভর্তি করান ঢাকার নটরডেম কলেজে। সেখান থেকে এইচএসসি পাস করে শাহীন লেখাপড়া করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে আর হুমায়ুন প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করেন।  অবশেষে ৩৪তম বিসিএস পুলিশ ক্যাডারে নিয়োগ পেয়েছিলেন আপন দুই ভাই। তবে এ রকম ঘটনা বাংলাদেশ পুলিশের ইতিহাসে এটাই প্রথম ছিল না। এর আগেও ঘটেছে এমন ঘটনা। ২৫তম বিসিএসেও আপন দুই ভাই নিয়োগ পেয়েছিলেন। এরপর আরও নয়টি বিসিএস পেরিয়ে ৩৪তম বিসিএসে ঘটলো বিরল ঘটনা।

প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বারেক ছিলেন দুই ভাইয়ের আলোর দিশারি। কৃতি সন্তানের বাবা আব্দুল বারেক বলেছিলেন, দেশের জন্য কিছু করবে। মানুষের জন্য কিছু করবে। সব সময় চেষ্টা করবে সবার উপকার করতে। আজ সেই বাবার আদর্শ নিয়েই এগিয়ে চলছেন তারা। তৃণমূল পর্যায়ে মানুষের সেবা করার জন্য পুলিশ ক্যাডারই বেশি সুযোগ মনে করায় পুলিশ ক্যাডার পছন্দ তাদের। সম্প্রতি বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ শেষের পর কর্মক্ষেত্রে যোগ দিয়েছেন তারা। বড় ভাই হুমায়ুন যোগ দিয়েছেন শেরপুর জেলার সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে। আর ছোট ভাই শাহীন যোগ দিয়েছেন কুড়িগ্রাম জেলার সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে।

দুই ভাইয়ের চোখে মুখে এখন নতুন স্বপ্ন বুনতে শুরু করেছেন। বড় ভাই হুমায়ুনের স্বপ্ন, কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মাধ্যমে মানুষের সেবা করা। এ লক্ষ্যে কমিউনিটি পুলিশিংকে এমন পর্যায়ে নিয়ে যেতে চান যাতে করে ঘটনা ঘটার অগেই তা প্রতিরোধ করা যায়। ভাইয়ের সঙ্গে সুর মিলিয়েই ছোট ভাই শাহীন বলেন, এমনভাবে কাজ করতে চাই যেন বাংলাদেশ পুলিশ রোল মডেল হয়ে উঠতে পারে। একটি পর্যায়ে এমন বাংলাদেশ দেখতে চাই- যেখানে অপরাধ বলতে কিছু থাকবে না।

Top