সকাল ৭:০২
12-12-2017Issueওয়ান প্লানেট শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে প্যারিসের পথে প্রধানমন্ত্রীশহীদ সাংবাদিক সিরাজুদ্দীন হোসেনের অপহরণ দিবস আজটাঙ্গাইল হানাদার মুক্ত দিবস আজরাষ্ট্রপতি ওআইসির সম্মেলনে যাচ্ছেন আজওয়ান প্লানেট শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে প্যারিসের পথে প্রধানমন্ত্রী11-12-2017Issueনিরাপত্তা ঝুকির চিঠি উপেক্ষাঃ উত্তরা নাটোর টাওয়ারে ভয়াবহ অগুন10-12-2017 issueবিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে আশুলিয়ায় স্বেচ্ছাসেবক লীগের যৌথ আলোচনা সভা

অসম প্রেমের সম্পর্ক ছিল!

মোখলেছুর রহমান : এ প্রতিবেদনে তুলে ধরা হল, হিটলার ও তার ভাতিজির মধ্যে সম্পর্কের এক অদ্ভুত ও দুঃখজনক গল্প, যা জেনে আপনি হয়তো এখন থেকে হিটলারকে আগের চেয়ে আরো বেশি ঘৃণা করতে শুরু করবেন।

তার ভাতিজির নাম ছিল গিলি রাউবল।

গিলির বয়স যখন ১৭ বছর ছিল তখন তার চেয়ে দ্বিগুণ বয়সি চাচা তার জীবনে আসে। এটি ছিল ১৯২৫ সাল। এই অসম সম্পর্কের শুরু হয় যখন গিলির মা এনজেলাকে স্বামীর আকস্মিক মৃত্যুর পর হাউসকিপারের চাকরির প্রস্তাব করেন হিলটার।  এরপর এনজেলা তার মুগ্ধকর কিশোরী কন্যা গিলিকে সঙ্গে নিয়ে হিটলারের বাড়িতে চলে আসেন।

গিলি বুঝতে পারেনি যে, সে  আগামী ৬ বছর তার চেয়ে বয়সে ১৯ বছরের বড় এমন একজন মানুষের তত্ত্বাবধানে থাকবেন যাকে সে এতদিন ধরে ‘‌আঙ্কেল অ্যাল’ নামে ডেকে আসছে। কিন্তু সময়ের পরিক্রময়ায়  হিটলার এবং গিলি পরস্পরের অনেক কাছাকাছি চলে আসে।

৪ বছর পর, এনজেলাকে বার্চেসগ্যাডেনের কাছে একটি ভিলাতে স্থানান্তরিত করা হয় এবং গিলিকে মিচেন অ্যাপার্টমেন্টে হিটলারের তত্ত্বাবধানে থাকতে বলা হয়। অন্য কোনো বিকল্প না থাকায় এনজেলা বাসা স্থানান্তর করতে বাধ্য হয়। কিন্তু এই বাসা স্থানান্তরের পিছনে হিটলারের অন্য মতলব ছিল।

এরপর গিলি হিটলার জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠে। সে তার চাচার ব্যবসায়িক মিটিং এবং পার্টিগুলোতে যোগ দিতে থাকে, কর্মকর্তাদের আকর্ষণ করতে থাকে, কখনো কখনো এমনকি তাদের সঙ্গে একটু আধটু ফ্লার্টও চলতে থাকে। বস্তুত তখন সে হিটলারের স্নেহময় সহকারী ছিল।

বেশ কিছুদিন এভাবেই তাদের সম্পর্ক চলছিল।  অনেকেই বলে থাকে যে,  হিটলার তাকে সবসময় পাশাপাশি রাখত এবং অপেরা বা চলচ্চিত্রের মতো জায়গাগুলোতে তাকে নিয়ে যেত। যখন সে গিলির সঙ্গে যেতে পারত না, তিনি তার ওপর নজর রাখতে কাউকে না কাউকে পাঠাত। ধীরে ধীরে, তাদের সম্পর্কের সমীকরণ পরিবর্তন হতে থাকে।

‘পিতা’ তুল্য বিবেচনা করা হিটলার ধীরে ধীরে হিটলারের কর্তৃত্বের রুপেই আবির্ভূত হয়। ওই সরল ও আবেগী বয়সে গিলিকে সহজেই নিয়ন্ত্রণ করা গিয়েছিল এবং হিটলারের  অত্যাচারী কর্মের (মাত্রাতিরিক্ত খবরদারি ও নজরদারি)  প্রতি গিলি খোলাখুলিভাবে কোনো প্রতিবাদ জানাতে পারেনি। ইচ্ছামতো ও স্বাধীনভাবে চলাফেরায় গিলির দিন শেষ হয়ে আসে। খুশিমতো জীবনযাপন সীমিত করে রুটিন মাফিক জীবনযাপনে তাকে বাধ্য করা হয়।

কিন্তু এরপর যখন গাড়ি চালকের সঙ্গে গিলির সম্পর্কের কথা হিটলার জেনে যায় তখন গাড়ি চালককে তৎক্ষণাৎ বহিষ্কার করে গিলিকে গৃহবন্দী অবস্থায় রাখে। সামাজিকভাবে বাইরে বের হওয়া বন্ধ হয়ে যায় গিলির, এমনকি বন্ধুদের সঙ্গেও দেখা করতে দেওয়া হতো না। গিলির বেশিরভাগ সময়ই কাটতে থাকে একাকী, হতাশা এবং  বিষণ্নতায়।

বিষয়টা অনেকটা এমন যে, এমন এক কিশোরীর প্রতি হিটলার দূর্বল হয়ে ওঠে, যে সম্পর্কে তার ভাতিজি। বলা চলে, সে ছিল তার ড্রাগ এবং তিনি ছিলেন তাতে আসক্ত। হিটলার তার ব্যবহারে খুবই সিরিয়াস ছিল।

দৃশ্যত, হিটলার ধীরে ধীরে গিলির প্রেমে পড়ে যায়। হিটলারের মধ্যে বদ্ধভাবে ঈর্ষান্বিত এবং উন্মাদ প্রেমিকের মতো তার জন্য অনুভূতি সৃষ্টি হয়। গিলির এই জঘন্যতম নিরাপত্তাহীনতা এবং তার ওপর হিটলারের এই একক আধিপত্য নিয়ে ইতিমধ্যেই ফিসফাস আলোচনা শুরু হয়ে যায় যে, একই বাড়িতে থাকায় তাদের মধ্যে একটি অসুস্থ রোমান্সের বীজ বপন হচ্ছিল কিনা।

সে সময় হিটলার ছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর শাসনকর্তা । নাৎসি পার্টির কথা ছড়িয়ে পড়েছিল এবং নেতা হিসেবে স্ক্যান্ডালটি দলের কাছে তার জন্য একটি বিপজ্জনক হুমকি হিসেবে উত্থাপিত হয়েছিল। কিন্তু হিটলার এই হুমকিকে পাত্তা দেননি।

অন্যদিকে গিলি একজন গায়িকা হয়ে উঠবার স্বপ্ন দেখতে শুরু করে এবং নতুন করে জীবন শুরু করতে ভিয়েনাতে পালিয়ে যেতে চেয়েছিল। সে সেখানের কাউকে বিয়ে করে স্থায়ীভাবে বসবাসের পরিকল্পনা করেছিল। এ কারণে হিটলার এবং গিলি মধ্যে বিবাদের সূত্রপাত হয়।

অবশেষে, একদিন হিটলার যখন একটি মিটিংয়ের জন্য যাচ্ছিলেন, গিলি তখন জানালা খুলে ফেলে এবং হিটলারের উদ্দেশে চিৎকার করে কিছু একটা বলে। হিটলারের জবাব ছিল, ‘না, শেষবারের জন্য না।’

পরে মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় গিলির মৃতদেহ পাওয়া যায়। চাচার পিস্তল চুরি করে সে নিজের বুকে গুলি করেছিল।  তখন গিলির বয়স ছিল ২৩ বছর। এরপর প্রায় ৮৬ বছর কেটে গেছে।

এখনো এটিকে আত্মহত্যা বলেই বিবেচনা করা হয়,  যদিও ভবিষ্যতের পরিকল্পনা সম্পর্কে জানিয়ে বন্ধুর উদ্দেশে লেখা গিলির একটি চিঠি ডেস্কের ওপর অর্ধেক লিখিত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল। আত্মহত্যার কোনো নোট খুঁজে পাওয়া যায়নি।

তবে এর ব্যাখা হিসেবে অসন্তুষ্ট জীবন বলা হয়েছে।  চমকপ্রদ বিষয় হলো, তার দেহ একটি ক্যাথলিক কবরস্থানতে সমাহিত হয়, যেখানে আত্মহত্যার ক্ষেত্রে সমাহিত করার অনুমতি দেওয়া হয় না। কারো মতে, হতাশা থেকে নিজেকে নিজে হত্যা করেছিল গিলি, আবার কারো মতে, গিলিকে খুন করা হয়েছিল।

এটাও বলা হয়ে থাকে যে, হিটলার তার মৃত্যু সংবাদ পাওয়ার পর গভীর বিষণ্নতায় ভুগতেন। কিন্তু গিলির মৃত্যু তার রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে ধমাতে পারেনি। যদিও এটি একটি বড় বিতর্ক তৈরি করেছিল, কিন্তু হিটলার ব্যাপারটি দ্রুতই ধামাচাপা দিতে সক্ষম হয়।

গিলি এবং হিটলারের মধ্যে যৌনসম্পর্ক ছিল নাকি ছিল না, কেউই সুনির্দিষ্টভাবে বলতে পারেনি তা। তবে স্পষ্টত কিছু বিষয় ছিল, যা এই বিতর্কিত ঘটনাটিকে সত্য বলেই প্রতীয়মান করে।

যা হোক, গিলির যখন জন্ম হয়, তখন হিটলার জীবনযুদ্ধে তিক্ত অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ও একজন সংগ্রামকারী ছিলেন। আর যখন গিলি মারা যায়, তখন তিনি পৃথিবীর আধিপত্য বিস্তারকারী এক শাসক যিনি পৃথিবীতে সবচেয়ে জঘন্য গণহত্যা ঘটিয়েছিলেন।

গিলির করুণ পরিণতি কি অনৈতিক প্রেমে নাকি সহ-নির্ভরতার একটি বিষাক্ত ছোবল কিংবা আবেগজনীত একটি নীরব অপরাধ? কেউ জানে না তা এবং কোনোদিন জানবেও না!

তথ্যসূত্র : স্কুপহুপ

Top