বাতিঘর : শিশুদের ভিন্ন ধরনের স্কুল

ডেস্ক: রাজধানীর বিভিন্ন বিদ্যালয়ে পড়াশুনা করা শিশুরা বাতিঘর সাংস্কৃতিক বিদ্যালয়ে এসেছে প্রকৃতির সঙ্গে পরিচিত হতে।
বাবা-মা বাসায় কখনোই মাটি ধরতে দিত না শিশুদের। কিন্তু বাতিঘরে মাটি দিয়ে সারা শরীর মাখামাখি করলেও কেউ কিছু বলে না।
রাজধানীর লালমাটিয়ায় অবস্থিত বাতিঘরে ৩ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুরা সপ্তাহে শুক্র ও শনিবার (দুই শিফট) বাবা, মায়ের হাত ধরে বাতিঘরে আসে। গান, নাচ, চারু ও কারুকলা, আবৃত্তি ও অভিনয়, যুক্তিকথা, বিশ্ব পরিচয়, মাটি দিয়ে বিভিন্ন জিনিস বানানো, গাছ চেনা, পাখি চেনা, দেশের ঐতিহাসিক স্থানগুলোতে যাওয়াসহ বিভিন্ন কিছু নিয়ে ব্যস্ত থাকে। তিন থেকে চার বছর বয়সী শিশুরা ‘ইচ্ছে’ শ্রেণিতে বিভিন্ন জিনিসের সঙ্গে পরিচিত হয়। ১৮ মাসের প্রস্তুতি পর্ব বা কোর্স শেষ হওয়ার পর একেকজনের পছন্দ অনুযায়ী কে কোনটা শিখবে, তা ঠিক করা হয়। চার বছর পর সে তার ইচ্ছা অনুযায়ী যেকোনো বিষয় বেছে নিতে পারে।
এই স্কুলটিতে কেউ কেউ বাল্মিকী প্রতিভা নৃত্যনাট্যের তালিম নিচ্ছে। কেউ কেউ ছড়া গান গাইছে। একজন জানাল, তার কিছুই করতে ইচ্ছে করছে না। অভিভাবকদের কেউ কেউ সন্তানের সঙ্গে সেখানেই বসে আছেন।
প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক তামান্না সেতু ও  অধ্যক্ষ মেহেদী হাসানের একটি স্বপ্ন বাতিঘর নিয়ে। এর পরিচালক তামান্না সেতু ও প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ মেহেদী হাসান সম্পর্কে স্বামী স্ত্রী।
মেহেদী হাসান জানালেন, বাতিঘরে কোনো কিছু শেখানো হয় না। সবকিছুর সঙ্গে পরিচিত করানো হয়। বিদ্যালয়টির বয়স খুব বেশি নয়। বাতিঘরে বয়স ৩ বছরের বেশি। শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২৫০ ছাড়িয়েছে। বেতন মাসে ১ হাজার ৫০০ টাকা। এ টাকা দিয়েই মাটি কেনা, রং-তুলি কেনা, টিফিন খরচ—সব চলে।
তামান্না সেতু বলেন, বাংলা সংস্কৃতির বিভিন্ন ধারার সঙ্গে পরিচিত করানো। লালনের জীবন বা এস এম সুলতানকে এবং শিকড়ের সঙ্গে পরিচিত হচ্ছে।
এখানে ওরা ছবি আঁকে, মৃৎশিল্প করে আর অরিগ্যামি করে। ছবি আঁকে ওরা নিজের ইচ্ছে-খুশি মতো। গতানুগতিক উপায়ে চারকোনা, বৃত্ত বা ত্রিভূজ এঁকে রং দিয়ে ভরাট করা– বাতিঘরের ক্লাসে এমনটা হয় না। এখানে শিশুকে উদ্বুদ্ধ করা হয় তার কল্পনার ছবি আঁকতে। শিখিয়ে দেওয়া ছবি নয়, বরং নিজের মতো করে ছবি আঁকতে শেখে শিশুরা।
শিশুর কল্পনা শক্তিকে উস্কে দিতে ওদেরকে মাঝেমাঝে নিয়ে যাওয়া হয় প্রকৃতির কাছে। ফুল-পাখি-মাঠ-প্রজাপতি-জলের সাথে সম্পর্ক তৈরি হয় ওদের। রঙিন হয় ওদের ভাবনার জগত।

উল্লেখ্য বাতিঘরের  মোট তিনটা শাখা। লালমাটিয়া, উত্তরা এবং মিরপুর (শেওড়াপাড়া)।