দুপুর ১:৪৩
আমি বিবাহিত না : সিমলানড়াইলের মামলায় খালেদার ৬ মাসের জামিনমহাসড়কেও চলবে না ফিটনেসবিহীন গাড়ি: আইজিপিপ্রধানমন্ত্রী টুঙ্গিপাড়া যাচ্ছেন বুধবারভারতের সাবেক স্পিকার সোমনাথ চ্যাটার্জির মৃত্যুমন্ত্রিসভার বৈঠক চলছে১৫ আগস্টের ঘাতকরা এখনো সক্রিয় : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী২২ আগস্ট পবিত্র ঈদুল আজহামুক্তিযুদ্ধ ও সৎসঙ্গের অবদানে শহীদ বুদ্ধিজীবী প্যারী মোহন আদিত্যআজ জানা যাবে ঈদ কত তারিখ

মেহেদী লাগান সঠিক নিয়মে

ডেস্ক প্রতিবেদন : দুটি উৎসব। এই আয়োজনে মেহেদী হাতে রঙিন হয়ে ওঠেন শিশু-কিশোর, যুবক-বুড়ো সব বয়সী মানুষ। আর ঈদের মতো বর্ণিল আয়োজনে সবাই মিলে মেহেদী রাঙা হবেন না এটাতো হতেই পারে না। আগের দিনে গ্রামে দেখা যেত ঈদের আগের দিন বাড়ির মেয়েরা মেহেদি পাতা পাটায় বাটত। সেই বাটা মেহেদি দিয়ে হাতের মাঝখানে গোল গোল নকশা অথবা লতা পাতার নকশা করত। বর্তমান সময়ে আর বাটাবাটির সময় এবং ঝামেলা কোনটাই নেই।

বাজারে এসেছে নানা রকম নকশার  টিউব মেহেদী । এগুলো দিয়ে খুব সহজেই মনের মতো করে ডিজাইন করা যায়। ঈদের আগের দিন মেয়েরা চাঁদ দেখার সঙ্গে সঙ্গে সবাই হাতে মেহেদি দেয়ার জন্য প্রস্তুত হয়। তাদের কাছে মেহেদি রাঙা হাত ছাড়া যেন ঈদ কল্পনা করা যায় না। সাধারণত দেখা যায়, বাড়ির সদস্যরা একে অপরকে মেহেদি লাগিয়ে দেয়। মেহেদি লাগাতে লাগাতে কখন যে রাত শেষ হয়ে যায়, বোঝাই যায় না। এই মেহেদি উৎসবের আনন্দ থেকে বাদ যায় না ছেলেরাও। তারাও হাতে মেহেদি লাগায়। আর বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মেহেদি পাওয়া যাচ্ছে ৪০ টাকা থেকে ২০০ টাকার মধ্যে।

কেনার ক্ষেত্রে লক্ষ্যনীয়

মেহেদি কেনার বা পরার সময় কিছু বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি। যেমন_ বাজারে এখন অনেক ধরনের আকর্ষণীয় গোল্ড মেহেদি পাওয়া যাচ্ছে। যেগুলো হাতে লাগালে পাঁচ মিনিটেই রঙ হয়ে যায়। এ ধরনের মেহেদী হাতের ক্ষতি করতে পারে। এসব মেহেদির রঙ স্থায়ী হয় না। তাই বিজ্ঞাপন দেখে এ ধরনের মেহেদি না কেনাই ভালো।

আমার পরিচিত একটি ঘটনা বলি, ঢাকার একটি নাম করা কলেজের এক ছাত্রী তাঁর মায়ের সঙ্গে এলেন চর্ম রোগের ডাক্তারের চেম্বারে। চোখ দিয়ে ফোঁটায় ফোঁটায় পানি ঝরছে আনিকার। ডাক্তার জানতে চাইলেন- ‘কী সমস্যা?’ দুই হাত তুলে ধরেন ডাক্তারের সামনে। হাত দেখে ডাক্তার আঁৎকে উঠলেন- ‘এ কী সর্বনাশ!’ আনিকা হাউমাউ করে কেঁদে ফেললেন। একটু দম নিয়ে বললেন, ‘আমার হাত দুটো বুঝি শেষ হয়ে গেল। প্লিজ কিছু একটা করুন।’

দুই হাতের মেহেদি রঙের সুন্দর আল্পনা ছাপিয়ে বীভৎস হয়ে উঠেছে জলফোসকা। পাশ থেকে মা বললেন, ‘মেয়েটি আমার ছোট সময় থেকেও সাজুগুজু করতে খুব পছন্দ করে। মেহেদির সাজ খুব পছন্দ করে মেয়ে টা আমার।

আমি নিজেই ওর সঙ্গে গিয়ে টেলিভিশনে নিত্য বিজ্ঞাপন দেয় এমন একটি পরিচিত ব্র্যান্ডের টিউব মেহেদি কিনে দিই ধানমণ্ডির একটি মার্কেট থেকে। রাতে বসে বসে আমি নিজে ওর হাত সাজিয়ে দিয়েছি। কিছুক্ষণ পরেই মেয়ে আমার বলতে শুরু করে হাত জ্বলেপুড়ে যাওয়ার কথা। সঙ্গে সঙ্গে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে হাত ধুয়ে দিই। ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই ওর দুই হাতের নকশাজুড়ে ছোট-বড় ফোসকা ওঠে। সকাল নাগাদ কয়েকটি ফোসকা ফেটে যায়। এতে যন্ত্রণা আরো বাড়ে। মেয়ে বাসায় চিৎকার করে কান্নাকাটি করেছে।’ ঘটনার বর্ণনা শুনে ডাক্তার তাঁকে দুই-তিনটি খাওয়ার ওষুধ ও একটি মলম লাগানোর পরামর্শ দিয়ে বিদায় করেন।

শুধু এই ছাত্রী একা নন, বাজারে বিক্রি করা বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মেহেদি থেকে অনেকেরই হাত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, কারো জল ফোস্কা, কারো ত্বক ঝলসআনো, কারোবা হাত ফুলে যাচ্ছে। অসহায় হয়ে চিকিৎসকদের কাছে ছুটে আসছেন এমন অনেকেই।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের চর্ম বিভাগের সহকারী অধ্যাপক বলেন, মাঝেমধ্যেই মেহেদিতে হাত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া রোগী আসে চিকিৎসা নিতে। যাদের বেশির ভাগই অল্প বয়সী মেয়ে। তাদের কেস স্ট্যাডি নিয়ে জানা যায়, বাজারে প্রচলিত বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মেহেদি ব্যবহারের ফলে এমনটা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বলেন, ‘সরাসরি মেহেদী গাছ থেকে পাতা সংগ্রহ করে যারা নিজেরা মেহেদি ব্যবহার করে তাদের এ ধরনের ক্ষতির ঝুঁকি থাকে না। কিন্তু বাজারে নকল ও ভেজাল অনেক টিউব মেহেদি বেচা-কেনা হয়। এসবের মধ্যে অনেক ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক মেহেদির লেশমাত্র থাকে না, বরং বিষাক্ত নানা রাসায়নিক রং দিয়ে এই মেহেদি তৈরি করে বাজারজাত করা হয়। এগুলোর মধ্যে এসিড জাতীয় ক্ষতিকর উপাদান থাকে, যা মানুষের ত্বক ঝলসে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।যদি শুধু মেহেদী পাতা হত তাহলে মেয়াদ হত ৩ থেকে ৪ দিন এখন সামান্য পরিমান মেহেদীর সাথে বাকি রং আর অন্যান্য ক্যামিক্যাল পূর্ণ করার কারনে মেহেদী সংরক্ষণ করার মেয়াদ বছর দেওয়া যাচ্ছে।

ঢাকার কাছে কেরানীগঞ্জে একটি ভেজাল ও নকল মেহেদি তৈরির কারখানায় অভিযান চালায় র‌্যাবের বিশেষ টিম। এ সময় ওই কারখানা থেকে পাকিস্তানি হারবাল মেহেদি তৈরির নানা কেমিক্যাল ও সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

কেরানীগঞ্জের ওই কম্পানিতে এগুলো তৈরি হলেও প্যাকেটের গায়ে হিন্দি ও উর্দু লেখা লিখে তা বাজারজাত করা হতো। এসব মেহেদিতে কী ধরনের কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয় তা পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়েছে।

একবারে পুরো হাতে নকশা ধরে মেহেদি না লাগিয়ে শুরুতে সামান্য একটু মেহেদি কোথাও লাগিয়ে স্কিন টেস্ট করা যেতে পারে। যদিও এ ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখতে না-ও পাওয়া যেতে পারে। অনেকের স্কিনে তাৎক্ষণিক ক্ষতির লক্ষণ দেখা দিলেও, অনেকেরই ধীরে ধীরে কিংবা কয়েক ঘণ্টা বা কয়েক দিন পরেও ক্ষতি হতে পারে। তাই মেহেদি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক ও সচেতন থাকা খুবই জরুরি। এ ছাড়া যাদের ত্বকে এলার্জির সমস্যা আছে তাদেরও মেহেদি পরিহার করা উচিত।

ন্যাচারাল মেহেদী কই পাবেন?

বাজারের সব মেহেদি ব্র্যান্ডই যে বিষাক্ত বা ক্ষতিকর তা ঢালাওভাবে বলা যাবে না। ভাল গুনগত মানের মেহেদি কিনতে এই লিঙ্ক গুলতে ঘুরে আস্তে পারেন।

Top