সন্ধ্যা ৭:০৬
শহীদ সন্তান সুমন জাহিদের মৃত্যু রহস্য উদ্ঘাটনে সুষ্ঠু তদন্তের জোর দাবী : প্রজন্ম’৭১ঈদের ছুটি কাটিয়ে ঢাকা ফিরে পাচ্ছে আগের চেহারাসকালের বৃষ্টিতে মানুষের দেহমনে স্বস্তিআজ আওয়ামী লীগের যৌথসভাআজিজ আহমেদ নতুন সেনাপ্রধানদক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়ে বিশ্বকাপ শুরু সুইডেনেরসৌদিতে আগুনে পুড়ে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুকুয়াকাটা সৈকত জুড়ে পর্যটকের উপচে পড়া ভীড়রংপুরে২ নারী ক্রিকেটারকে সংবর্ধকর্মক্ষেত্রে নারী কর্মীদের হয়রানি

রাজধানীতে আসছে মৌসুমী ফল, মান নিয়ে সংশয়

বিশেষ প্রতিনিধি : আর মাত্র ১০ দিন পরই আসছে বাঙালির প্রিয় মাস জ্যৈষ্ঠ। কিন্তু মধু মাসের আগেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা মৌসুমী ফলে সরগরম হতে শুরু করেছে রাজধানীর বাজারগুলো। ফুটপাথ থেকে শুরু করে বড় বড় সুপার স্টোরগুলো এখন বৈচিত্রময় ফলে সাজানো। আম, কাঁঠাল, লিচু, আনারস, জামরুলের পাশাপাশি রয়েছে তরমুজ-বাঙ্গিও। যেন ঋতুর সঙ্গে পাল্লা দিয়েই ফল আমদানি শুরু করেছেন ব্যবসায়ীরা।

তবে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম হওয়ায় সব ফলের দাম আকাশ ছোঁয়া। দাম শুনেই যেন হোঁচট খান ক্রেতারা। তাছাড়া আগাম ফলের স্বাদ ও মান নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে রয়েছে অনিশ্চয়তা। এতে বাজারে ফলের ক্রেতাও কম। মৌসুমী ফলের দাম সাধারণ ক্রেতাদের নাগালে আসতে আরও দুই থেকে তিন সপ্তাহ সময় লাগবে বলে ধারণা করছেন বিক্রেতারা।

রাজধানীর গুলিস্তান, মতিঝিল, পল্টন, পুরান ঢাকার বাদামতলী, ওয়াইজঘাটসহ বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা বাজারে সাতক্ষীরা থেকে আনা হিমসাগর ও গোপালভোগ জাতীয় দেশি পাকা আম পাওয়া যাচ্ছে। একইসঙ্গে নারায়নগঞ্জের সোনারগাঁও থেকে আনা হয়েছে কদমি লিচু। তবে বাজার ভেদে দামের তারতম্য রয়েছে।

দেশের নানা প্রান্ত থেকে আনা মৌসুমী ফল চড়া দামে বিক্রি করছেন রাজধানীর মতিঝিল ও পল্টন এলাকার বিক্রেতারা। এসব এলাকায় কেজি প্রতি হিমসাগর আম বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকা থেকে ২০০ টাকায়, গোপালভোগ বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৫০ টাকায় এবং শত হিসাবে বড় লিচুর দাম রাখা হচ্ছে ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা। তবে গুলিস্তান ও বাবুবাজারে এসব ফল অপেক্ষাকৃত কম দামে পাওয়া যাচ্ছে।

পল্টন এলাকার ফল বিক্রেতা গোলাম রব্বানি বলেন, এসব ফল দেশের নানা প্রান্ত থেকে সংগ্রহ করে রাজধানীতে আনতে পরিবহন ব্যয় অনেক বেশি হচ্ছে। আর পাইকারি বাজারে ফলের দাম বেশি হওয়া বাধ্য হয়ে খুচরা বাজারেও বেশি দামে ফল বিক্রি করতে হচ্ছে। তবে ১৫-২০ দিনের মধ্যে ফলের দাম কমবে। এর মধ্যে সোনারগাঁওয়ের লিচু শেষ হয়ে বাজারে উত্তরবঙ্গের লিচুও আসবে।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, টক-কাঁচা আমের চাহিদাও কম নয়; বাজারে এগুলোর দাম রাখা হচ্ছে কেজি প্রতি ৫০-৬০ টাকা। সাতক্ষীরার কাঁচা মিঠা আম পাওয়া যাচ্ছে ১০০-১২০ টাকায়। লাল থাই জামরুল বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা দরে। সাদা জামরুল পাওয়া যাচ্ছে ৮০ থেকে ১২০ টাকায়।

রাজধানীর বাজারে কাঁঠাল আসলেও তা পরিমাণে খুবই কম। এতে দাম যেন কাঁঠালের ওজনের মতোই ভারী। আকার ভেদে প্রতিটি কাঁঠাল ৫০০ থেকে ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ২ সপ্তাহ পর এ ফলের পর্যাপ্ত আমদানি শুরু হবে বলে ধারণা করছেন বিক্রেতারা। তখন দামও কমবে।

এদিকে অন্যান্য ভোগ্যপণ্যের মতো মধু মাসের ফলের দামেও খুচরা এবং পাইকারি বাজারে বিস্তর ফারাক দেখা যাচ্ছে। পুরান ঢাকার বাদামতলীর লিচু ব্যবসায়ী মোবারক আলি বলেন, শত হিসাবে এবং মানভেদে পাইকারি বাজারে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায় লিচু বিক্রি হলেও খুচরা বাজারে লিচুর দাম পড়ছে ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা।

দেশি ফলের সঙ্গে বিদেশি ফলের আধিক্য রয়েছে বাজারে। দেশি মৌসুমী ফল আসার আগেই বাজারে এসেছে ভারতীয় হলুদ রঙের পাকা আম গোলাপখাস, খিরসা ও লালমণি প্রভৃতি। মিষ্টি স্বাদের এই আম বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১৫০ থেকে ২০০ টাকায়। এছাড়া থাইল্যান্ডের লম্বা পাকা আম পাওয়া যাচ্ছে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায়।

বাজারে ফল আসলেও দাম বেশি হওয়ায় সাধারণ ক্রেতার উপস্থিতি কম। সেইসঙ্গে ভরা মৌসুমের তুলনায় আগাম ফলে স্বাদ-গন্ধ নিয়েও ভোক্তাদের মধ্যে দ্বিধা কাজ করছে। তাছাড়া প্রাকৃতিক উপায়ে পাকানো হয়েছে কি না- এ নিয়েও যথেষ্ট সন্দিহান ক্রেতারা।

মতিঝিল এলাকার বাসিন্দা মাসুম বিল্লাহ বলেন, এবার বেশ আগেই লিচু ও আম বাজারে এসেছে। তবে এসব ফলের পরিপূর্ণ বয়স হয়নি। তাই এগুলোর স্বাদ ও মান নিয়ে যথেষ্ট সংশয় আছে। তাছাড়া ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান দিয়ে পাঁকানো কি না- তা নিয়েও দ্বিধায় আছি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে রাজধানীর পল্টন এলাকায় এক ফল বিক্রেতা বলেন, দেশের কোনো অঞ্চলে এখনও আম পাকা শুরু হয়নি। কিছু ব্যবসায়ী বেশি লাভের আশায় হারভেস্ট ও প্রোপিস্ট নামক রাসায়নিক দিয়ে আম পাকাচ্ছে। সাধারণত শাক-সবজির ফলন বৃদ্ধির জন্য এটি ব্যবহার করা হয়। এ কারণে এগুলোতে প্রকৃত পাকা আমের স্বাদ ও ঘ্রাণ নেই।

Top