রাত ৪:০৪
‘কোটা ইস্যুতে ছাত্রলীগকে সতর্ক করেছেন প্রধানমন্ত্রী’'কীভাবে আবিষ্কার করলাম যে আমার স্বামীর আরেকটি স্ত্রী আছে'আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভা সোমবারখালেদা জিয়া খুবই অসুস্থ, জানালেন আইনজীবিদেশে পৌঁছেছে রাজীব মীরের মরদেহজাপানে দাবদাহ: আরো অন্তত ১১ জনের প্রাণহানিঋতুপর্ণা ঢাকাতে ‘জ্যাম’ ছবির মহরতেপর্ষদ সভা করবে ব্রাক ব্যাংকবিডি ফিন্যান্স লিমিটেডের সভা ২৫ জুলাইখালেদার দণ্ডের আপিল শুনানি আজ

কাল বাঙালির পহেলা বৈশাখ, বাংলা নববর্ষ

‘মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা/ অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা। এসো, এসো, এসো, হে বৈশাখ।’ সকল না পাওয়ার বেদনাকে ধুয়ে মুছে, আকাশ-বাতাস ও প্রকৃতিকে অগ্নিস্নানে সূচি করে তুলতেই আবার এসেছে পহেলা বৈশাখ। নতুন স্বপ্ন, উদ্যম ও প্রত্যাশার আলোয় রাঙানো নতুন বাংলা বছর আগামীকাল মঙ্গলবার। স্বাগত ১৪২৩।

Frosez

কাল  পহেলা বৈশাখ ১৪২৩ খ্রিষ্টাব্দ। প্রকৃতির চিরায়িত নিয়মে কালের গহ্বরে হারিয়ে গেছে বাঙালিয়ানার আরো একটি বর্ষ। অর্থাৎ চৈত্র সংক্রান্তির মধ্য দিয়ে গতকালই ১৪২২ বাংলা খ্রিষ্ট্রাব্দকে বিদায় জানিয়েছে বাংলার প্রকৃতি আর বাঙালিরা। তাই পুরনো সব কিছ ধুয়ে-মুছে নতুনকে বরণ করার আজই সময়। বাংলাদেশ আর পশ্চিম বাংলায় অন্য বর্ষ যেভাবেই পালন করা হোক কেন, বাংলা বর্ষকে কিন্তু অত্যন্ত ঘটা করে পালন করে সংস্কৃতিমনা বাঙালীরা। সেই এতিহ্যের শেকড় ধরেই এ ধারা চলে আসছে আজ অবধি।

বৈশাখী আমেজের মাঝেই বাঙালিরা খুঁজে পায় এক নতুন স্বাদ, নতুন করে জীবন চলার পথের প্রেরণা আর উদ্দীপনা। তাই বাঙালি জীবনে এ মাসের গুরুত্ব অপরিসীম। জীবনের একঘেয়েমি থেকে মুক্তি পেয়ে মানুষের জীবনে এ মাসে, এ ঋতুতে নেমে আসে এক নব আনন্দধারা। এ ধারায় সিঞ্চিত হয়ে মানুষ নব উদ্দমে পরের মাসগুলোর কর্মমুখর জীবনের প্রস্তুতি গ্রহণ করে-এটাই বাঙ্গালী জীবনে বৈশাখের বৈশিষ্ট। এ কারণে বৈশাখের সঙ্গে বাঙালি-জীবনের অতি নিবিড় সম্পর্ক।

Boishakh_Ramna-Botomul

তবে সময়ের বিবর্তনের সাথে বৈশাখের অতীত চিত্র থেকে বর্তমান চিত্রের দারুণ বৈচিত্র এসেছে। অনেক ক্ষেত্রে অনেক পার্থক্যও পরিলক্ষিত করা যায়। তবে আকর্ষণটা আরো গাঢ় হয়েছে।

আগে নবান্ন সম্পাদনের পর মানুষ এ মাসে যেন মাঝে অনাবিল স্বস্তি ফিরে পেত। ক্ষেত-খামারের কাজ নেই। অনেকটাই অবসর জীবন। গাঁ’য়ের প্রান্তরে এইদিনে সন্ধ্যাবেলা গানের আসর বসত। আসরে পালাগান হত, পুঁথিপাঠ হত। ‘হালখাতা’ ছিল উৎসের অন্যতম আকর্ষণ। ভিন্ন আঙ্গিকে, ভিন্ন পরিবেশে এখনও আচার-অনুষ্ঠানে মেতে ওঠে জীবন। মেলা বসে শহরে-নগরে আর গঞ্জে। বিচিত্র হাতের তৈরি দ্রব্যসম্ভার সেসব মেলায় বিক্রি হয়। সে সকল দ্রব্যসামগ্রীতে বাংলার মানুষের বৈচিত্রময় দ্রব্য সামগ্রীতে জীবনধারার একটা স্পষ্ট চিত্র ফুটে ওঠে। মাটির পুতুল, পাটের শিকা, তালপাতার পাখা, সোলার পাখি, বাঁশের বাঁশি, ঝিনুকের ঝাড়, পুঁতিরমালা, মাটির তৈরি হাতি-ঘোড়া -বাঘ-সিংহ কত যে অদ্ভুত সব সুন্দর জিনিসের সমাবেশ ঘটে মেলায়। তবে সেই সব সেই দিন এখন নেই বললেই চলে।

বৈশাখের সেই উৎসব-উদ্দীপনা এখন প্রায় শহুরে কেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে। এতিহ্য হারা গ্রামের মানুষ বৈশাখ উৎসবের বন্ধহীন হয়ে পড়েছে। বাঁচার লড়াই আর জাীবনের নানা ঘুরপাকে পড়ে তারা জীবনের এ মায়াজাল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

বিপরীতভাবে ব’াংলার শেকড় চিত্রের সেই বর্ণিল উপলক্ষের সঙ্গী হয়ে গেছে  শহুরে অধিবাসীরা। যান্ত্রিক জীবন আর ইট-কংক্রিটের পরিবেশ পেরিয়েও বৈশাখী উৎসবকে বড় আপন করে নিয়েছে শহুরে মানুষ। ধর্মীয় দু’য়েকটি পার্বণ বাদ দিলে বেশাখী পার্বণই তাদের প্রাণের উৎসব বলা যায়। ঢাকা রমনা পার্কের মেলা শহুরে বৈশাখী  উৎসবের জীবন্ত সাক্ষী।

পশ্চিমবঙ্গ, কলকাতা পেরিয়ে এখন অস্ট্রেলিয়া, সুইডেন ও ইংল্যান্ডসহ আরো কয়েকটি দেশে পহেলা উদযাপন করা হয়ে।
অন্যদিকে বর্তমানে শহুরে জীবনে যে বেশাখী উৎসব পালন করা হয় সেখানে অনেক কিছু পাশ্চত্য অনুকরণে চলে। বিশেষ করে হিন্দি আর ইংরেজী গানে ভরপুর বিভিন্ন বড় বড় হোটেলের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এসব অপসংস্কৃতির চর্চা হয় বলে প্রায় অভিযোগ উঠে।

ইতিহাস ও ঐতিহ্যে পহেলা বৈশাখ
উইকিপিডিয়ার সূত্র মতে, ১৫৫৬ সালে শুরু হয়েছিল বাংলা সনরে প্রর্বতন। মোগল সম্রাট জালালউদ্দনি মোহাম্মদ আকবররে সিংহাসনে আরোহনরে দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে তার রাজস্ব র্কমর্কতা আমির ফতহেল্লাহ সিরাজী প্রথম ১৫৫৬ সালে উৎসব হিসেবে বৈশাখকে পালন করার নির্দেশ দেন। একই ধারাবাহিকতায় ১৬০৮ সালে মোগল সম্রাট জাহাঙ্গীররে নির্দেশে সুবদোর ইসলাম খা চিশতি ঢাকাকে যখন রাজধানী হিসেবে গড়ে তুলেন, তখন থেকেই রাজস্ব আদায় ও ব্যবসা বাণিজ্যের হিসাব-নিকাশ শুরু করার জন্য বাংলা বছররে পহলো বৈশাখকে উৎসবরে দিন হিসেবে পালন শুরু করনে।

ঐতিহাসিক তথ্যে আছে যে, সম্রাট আকবরের অনুকরণে সুবদোর ইসলাম চিশতি তাঁর বাসভবনরে সামনে সব প্রজার শুভ কামনা করে মিষ্টি বিতরণ এবং বৈশাখ উৎসব পালন করতনে। সেখানে সরকারি সুবদোর হতে শুরু করে জমিদার, কৃষক ও ব্যবসায়ীরা উপস্থতি থাকত। প্রজারা খাজনা নিয়ে আসত সেই উপলক্ষে সেখানে খাজনা আদায় ও হিসাব-নিকাশের পাশাপাশি চলত মেলায় গান-বাজনা, গরু-মোষের লড়াই, কাবাডি খেলা ও হালখাতা অনুষ্ঠান। পরবর্তীতে ঢাকা শহরে মিটর্ফোডরে নলগোলার ভাওয়াল রাজার কাচারিবাড়ি, বুড়ি গঙ্গার তীরর্বতী ঢাকার নবাবদের আহসান মঞ্জিল, ফরাসগঞ্জ এর রূপলাল হাউস, পাটুয়াটুলীর জমিদার ওয়াইযের নীলকুঠির সামনে প্রতি পহলো বৈশাখে রাজ পুন্যাহ অনুষ্ঠান হতো। প্রজারা নতুন জামাকাপড় পরে জমিদারবাড়ি খাজনা দিতে আসত। জমিদাররা আঙ্গিনায় নেমে এসে প্রজাদের সাথে কুশল বিনিময় করতেন। সবশেষে ভোজর্পব দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হতো।

Top